সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত ফাইল ইসির টেবিলে

আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইলটি নির্বাচন কমিশনারদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার ওই ফাইলে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিশনের দু’জন সদস্য স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এর আগে গত রবিবার বিকালে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে চারদিনের জন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইলটি উপস্থাপন করা হয়।

 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের সচিবালয়কে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।’
 
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নির্দেশে ইসি সচিবালয় থেকে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইলটিতে স্বাক্ষরের জন্য গতকাল সকালে পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়। সকালে ফাইলটি প্রথমে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজের কাছে পাঠানো হলে তাতে সম্মতি স্বাক্ষর দেন তিনি। পরবর্তীতে ফাইলটি আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার  জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলীর কাছে পাঠানো হলে তাতে তিনি নিজস্ব অভিমত তুলে ধরেন। তিনি বিস্তারিত নোটে সেনা মোতায়েন করা বা না করার পক্ষে নানা যুক্তি দেন। ফাইলটির শেষাংশে ছোট পরিসরে সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন। দু’জন কমিশনারের স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুপুর গড়িয়ে যায়। এরপর নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজের কাছে ফাইলটিতে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানোর আগেই তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন। তবে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বিকাল পর্যন্ত অফিসে থাকলেও তার কাছে ফাইলটি পাঠানো হয়নি। এভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত ফাইলটি স্বাক্ষর প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।
 
কমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, রবিবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক শেষে বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার চারজন কমিশনারকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিশনাররা সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে মত দেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট চারদিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে দু’জন কমিশনার কিছুটা দ্বিমত পোষণ করলেও পরবর্তীতে সম্মতি দেন। এরপর ফাইল প্রস্তুত করার জন্য ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলিকে নির্দেশ দেন সিইসি। সোমবার সকালে ফাইল প্রস্তুত করার পর সিইসি সব কমিশনারদের নিয়ে আবারো বৈঠকে বসেন। সিইসির ইচ্ছা ছিল, কমিশনারদের উপস্থিতিতে ফাইলটিতে স্বাক্ষর করানোর। কিন্তু কমিশনাররা ফাইলটি তাদের নিজ কক্ষে পাঠানোর জন্য সিইসিকে বলেন। কমিশনাররা ফাইলটিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করলে সেনা মোতায়েনের জন্য সশস্ত্রবাহিনী বিভাগকে চিঠি পাঠাবে কমিশন।
 
ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে তিনজন কমিশনার সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত ফাইলটি স্বাক্ষর করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে এর আগে সময় স্বল্পতার কারণে বিগত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে পারেনি কমিশন।
 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন দুই মেরুতে অবস্থান করছে।