সিরিজ জয়, হোয়াইট ওয়াশ; কোনোটাই বাংলাদেশের জন্য আর নতুন কোনো ব্যাপার নয়।
বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা টেস্ট খেলুড়ে দলকেও হোয়াইট ওয়াশ করে ফেলার কাজটি করেছে বাংলাদেশ দল। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে এইরকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়া একটু বিশেষ কিছু। কারণ, এই দলটার বিপক্ষে জয়ই তো এলো ১৬ বছর পর।
সেই জয়কে সিরিজ জয়ে পরিণত করা হয়ে গেছে। এবার সেটাকে হোয়াইট ওয়াশে পরিণত করার পালা। আগামীকালকের সেই চ্যালেঞ্জের আগে গতকালকের দিনটা বেশ হালকা মেজাজেই কাটালেন মাশরাফিরা। তবে লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞাটা যে তাদের দৃঢ়, সেটা বোঝা গেল খেলোয়াড়দের কথাবার্তায়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখে ২-০ সিরিজ জিতে এমনিতেই ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জয়ের আনন্দটা পরিবার পরিজনের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য গতকাল সোমবার ক্রিকেটারদের ছুটি দেয়া হয়।
ছুটির আমেজে অনেকে ফিরেছেন বাসায়, কেউ ঘুরতে বেড়িয়েছেন। কেউবা শপিং মলে গেছেন। দু’একজন আবার পছন্দের খাবার খেতে হোটেল থেকে বেরিয়ে দূরে কোথাও গিয়েছেন। হোটেলের লবিতে বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই হাসির আমেজে দেখা গেছে।
হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় এরকমই হাসতে হাসতে গত ম্যাচের কথা বলছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মন, ‘প্রথম ম্যাচে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামার আগে আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। পাকিস্তানকে ২৩৯ রানে আটকিয়ে ফেলার পর মনে হয়েছে আমরা ম্যাচটায় জিতে যাচ্ছি। সেটাই হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য সিরিজটা ৩-০ করার। সেটার দিকেই আমরা ফোকাস রাখছি।’
রুম্মন অবশ্য গতকালও ছুটি কাটাননি।
জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার যখন ছুটির আমেজে ব্যস্ত, তখন হোটেলের লবিতে বসে অলস সময় না কাটিয়ে, কোচিং স্টাফদের নিয়ে অনুশীলনের জন্য বেড়িয়ে পরলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার সঙ্গে ছিলেন, মুমিনুল হক সৌরভ, সাব্বির রহমান রুম্মন, সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার ও আবুল হাসান রাজুরা।
বিকাল তিনটায় সোনারগাঁ হোটেল থেকে বাসযোগে অনুশীলনের উদ্দেশ্যে মিরপুর যাওয়ার আগে আবুল হাসান রাজু বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে আমরা খুব আনন্দিত। সিরিজের শেষ ম্যাচের জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। আমার বিশ্বাস আমরা এই ম্যাচেও জিততে পারবো। শেষ ম্যাচে সুযোগ পেলে নিজিকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবো।’
সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও দুশ্চিতায় ভুগছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। আগের দিন ম্যাচ খেলে মধ্য রাতে হোটেলে ফেরা আজহার আলীর দল সকাল হতেই অনুশীলনের জন্য মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত।
মূলত বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াতেই অতিথি দলটির এমন তোরজোড়। শেষ ম্যাচে জিতে কিছুটা হলেও সম্মান বাঁচাতে চায় পাকিস্তান।
এদিন দুপুরেই ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তান থেকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন আহমেদ শেহজাদ, সোহেল তানভির ও মুক্তার আহমেদকে।