নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ইসির

আসন্ন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারদিনের জন্য সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল (রবিবার) থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিন সিটিতে ৩ ব্যাটালিয়ন সৈন্য মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে গতকালই চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রত্যেক সিটি এলাকায় কমপক্ষে এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য মোতায়েন করার কথা বলেছে কমিশন। তারা নির্বাচনের দিন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে নির্বাচনী স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের আগে রিটার্নিং অফিসারের চাহিদা অনুযায়ী তিন সিটিতেই সেনাবাহিনী টহল দেবে। গতকাল সন্ধ্যায় ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের মানসিক স্বস্তির জন্য সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

 
গতকাল কাজী রকিবউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যর কমিশন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইলটিতে স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। তিন সিটিতে এক ব্যাটালিয়ন (প্রায় ৮শ সৈন্য) করে সেনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে গতকাল সন্ধ্যায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. শামসুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিটি সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো হয়।
 
এর আগে গত রবিবার তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয় এ নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে তারা পুরোপুরি সক্ষম। এরপর ওই দিন বিকালে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরদিন এ সংক্রান্ত ফাইল নির্বাচন কমিশনারদের কাছে উপস্থাপন করা হলে ওই ফাইলে জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুসারে ৫ সদস্যের কমিশনের মধ্যে দু’জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। একজন কমিশনারের কাছে ফাইলটি পৌঁছানোর আগেই বেলা ২টার দিকে তিনি অফিস ত্যাগ করলে এ প্রক্রিয়া সেখানেই আটকে যায়। গতকাল ওই দুই জন নির্বাচন কমিশনারসহ সিইসি এ ফাইলে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানান। পরে সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
 
এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬ কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়। ওইসময় নির্বাচনের ৩ দিন আগে থেকে মোট ৫ দিনের জন্য সেনা সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় সিটি করপোরেশন আইনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। আইনগত ওই অবস্থার কারণে সে সময় সিটি নির্বাচনে সেনা সদস্যদের নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মতই কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু বর্তমান আইনে এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত নয়। বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯, ১৩০ ধারা অনুসারে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য তাদের সহায়তা নেয়া যায়।
 

চট্টগ্রামের পর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ড.এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সময় ৪ কোম্পানি সেনা চেয়ে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কমিশনের ওই চাহিদা পূরণ হয়নি। নারায়ণগঞ্জে সেনা চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কুমিল্ল­া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ড. হুদার কমিশনের বক্তব্য ছিল ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে পুলিশ গাছাড়াভাবে কাজ করে। তাছাড়া নির্বাচনে র্যাব যে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, সেনাবাহিনী তা পারে না। সেনাবাহিনীকে কিছু করতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে হয়। সেজন্য র্যাব-পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করলেই আমাদের বেশি লাভ।’