রংপুরে ঝড়ে ২ জনের মৃত্যু, শিশুসহ আহত শতাধিক

 
রংপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দেয়াল চাপা পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শিশুসহ আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষ। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
 
ঝড়ে তাণ্ডবে রংপুরের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন।
 
ঝড়ে উপড়ে গেছে প্রায় ৫০ হাজার গাছপালা। ১০ হাজার হেক্টর জমির ভুট্টা, ধানসহ রবি ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।  কাল বৈশাখী ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়াসহ তাঁর ছিরে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রংপুরের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলা। এদিকে বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শণ করে সহায়তা প্রদানের তালিকা তৈরি করেছেন স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। 
 
নিহতরা হলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল লতিফ ও চতরা ইউনিয়নের চকভেকার গ্রামের গেল্লা সরকারের স্ত্রী আছিয়া বেগম।
 
উপজেলার মনিকৃকৃষ্ণ সেন ডিগ্রী কলেজসহ ১০/১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনসেড ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। শত শত বিঘা ভুট্টা, কলা ক্ষেতসহ উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৭টি মাধ্যমিক, ৪টি প্রাইমারী ও ৬টি মাদ্রাসাসহ প্রায় ৪ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণপুর, লোহানীপাড়া ও কালুপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবারের কাঁচা ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। ভুট্টা, ধানসহ প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ৩ হাজার গাছপালা উপড়ে পড়ছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যাওয়া এবং তাঁর ছিড়ে পড়ায় গোটা উপজেলায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
 
এছাড়া রংপুর সদর উপজেলাসহ তারাগঞ্জ, কাউনিয়া উপজেলাতেও কাল বৈশাখীর তান্ডবে আড়াই হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে রংপুরের ৮ উপজেলার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়।