‘সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে সরকার জনমনে ভীতি ছড়াচ্ছে’

 
‘আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে সরকার জনমনে ভীতি ছড়াচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া ছাড়াও তার  গাড়িবহরে হামলা করেছে ক্ষমতাসীনরা। তারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এতেই প্রমাণ হয়—সরকার সন্ত্রাসের পথই বেছে নিয়েছে।’
 
বুধবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এই অভিযোগ করেন।
 
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘সরকার সন্ত্রাসকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভীতি ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা এ ধরনের উত্তেজনা ছড়াতে চাই না, বরং তা প্রশমিত করতে চাই।’
 
রিপন বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় হামলাকারীদের নাম-পরিচয় পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরা মিথ্যাচার করে হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন।’
 
রিপন বলেন, ‘এখনো সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আমাদের ও জনগণের আস্থা-বিশ্বাস আছে। তাই নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে কেবল রাস্তায় টহলের জন্য নামালেই হবে না। তাদের বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে প্রতি কেন্দ্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
 
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘দেশের যে অবস্থা, সন্ত্রাসীরা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাতে যেকোনো বিপদ ঘটতে পারে। তাই নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের কোনো বিকল্প নেই।’
 
রিপন খিলগাঁওয়ের গোড়ানে কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবা চৌধুরীর দুটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভেঙে দেয়ার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে এ বিষয়ে ইসিকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
 
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম প্রমুখ।