প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এরশাদ বললেন ‘চুপ করো’

 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট চাওয়ায় দলীয় মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর বিরুদ্ধে দলের নেতাদের আগে থেকে উত্তেজিত করে রেখেছিলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে দল সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো প্রার্থীর সঙ্গে গোপন ‘আঁতাত’ করেছেন-এমন খবরেও ক্ষুব্ধ এরশাদ দলীয় নেতাদের এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আগে থেকেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন।
 
তবে এই দুটি ঘটনা নিয়ে প্রেসিডিয়াম বৈঠকে দলীয় নেতারা যখন বক্তব্য দিতে শুরু করলেন, তখন তাদের থামিয়ে দিয়ে এরশাদ বলেছেন ‘তোমরা চুপ করো, এসব নিয়ে আজ কোনো কথা হবে না।’ এরশাদের এই ভূমিকায় ‘থ’ বনে যান নেতারা। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এই ঘটনা ঘটে।
 
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সোলায়মান আলম শেঠ। তবে জাপা মহাসচিব বাবলু গত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের সমর্থনে আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে নাছিরের পক্ষে একটি মিছিলেও অংশ নেন তিনি। এই ঘটনার ভিডিওচিত্র এরশাদসহ দলের কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতার হাতে-হাতে। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরে জাপার ভেতরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
 
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাবুল অন্য কোনো প্রার্থীর সঙ্গে গোপন সমঝোতায় গিয়ে কয়েকদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে জাপার ভেতরে চাওর হয়ে যায়।
 
এরশাদের অজান্তে দলের অন্য কোনো প্রভাবশালী নেতার মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে বলেও জাপার অনেকে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন। এরকম কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম কয়েকদিন প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে বাবুল রহস্যজনকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এমনকি ঢাকা মহানগর (উত্তর) জাপার বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও তিনি হঠাৎ  নির্বাচনি সমন্বয় বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে তাকে ঘিরে সন্দেহ গভীর হয়।
 
জাপার তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্য পৃথকভাবে ইত্তেফাককে জানান, এরশাদ নিজেই তাদেরকে আগে থেকেই এই দুটি ঘটনার বিরুদ্ধে প্রেসিডিয়াম বৈঠকে সোচ্চার হতে নির্দেশনা দিয়ে রাখেন। এমনকি প্রেসিডিয়াম বৈঠক চলাকালে কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আঁতাতকারীদের বিরুদ্ধে কর্মীরা যেন স্লোগান দেন ও শো-ডাউন করেন, সেই নির্দেশনাও দিয়েছিলেন এরশাদ। যার কারণে তিনি নিজেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে জরুরি এই প্রেসিডিয়াম বৈঠক ডাকেন। তবে বৈঠকে যখন নেতারা এনিয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন, তখন এরশাদই তাদের থামিয়ে দিয়েছেন। এতে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন দলটির এই তিন নেতা।
 
চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ জানান, নাছিরের পক্ষে বাবলুর প্রচারণার ভিডিওচিত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বিমানে উড়ে এসে প্রেসিডিয়াম বৈঠকে হাজির হন তিনি। যখনই তিনি ১৩ এপ্রিলের ঘটনার বর্ণনা দিতে শুরু করেন, তখন এরশাদ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন ‘তুমি এখানে কেন এসেছ, এসব কথা রাখো। তোমার কোনো কথা থাকলে আমার বাসায় এসে বলবে। এটা আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক নয়, আমরা এমনিতে কথা বলতে বসেছি।’
 
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানও দাঁড়িয়েছিলেন ওই দুটি ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে। এরশাদ তাকেও থামিয়ে দেন। এভাবে হইচই শুরু হলে এরশাদ একাই বক্তব্য দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ২০ মিনিটেই বৈঠক শেষ করে দেন। বৈঠকে দলীয় নেতারা কথা বলতে না পারলেও অবশ্য কার্যালয়ের বাইরে জাপার বেশ কিছু কর্মী ‘আঁতাত মানি না, মানবো না’-এরকম নানা স্লোগান দেন।
 
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ তার বক্তব্যে ঢাকা উত্তর নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের জন্য কাজ করতে দলীয় নেতাদের অনুরোধ করেন তিনি।