বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরমেন্সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই টাইগার ভক্তদের প্রত্যাশাটা ছিল অনেক বড়, ‘বাংলাওয়াশ হতে চলেছে পাকিস্তান’। হতাশ হতে হয়নি ভক্তদের। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ দিলো টাইগাররা। সিরিজের শেষ ম্যাচেও পাকিদের লজ্জায় ডুবিয়ে দুর্দান্ত এক জয় তুলে বাংলাওয়াশ নিশ্চিত করেছে মাশরাফি বাহিনী। সেই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের পর এবার টেস্টখেলুড়ে দেশের মধ্যে বাংলাওয়াশের স্বাদ পেল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।
পাকিস্তানের দেয়া ২৫১ রানের লক্ষে খেলতে নেমে দারুণ সূচনা করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দুজনে মিলেই দলকে নিয়ে যান জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ১৪৫ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন হয় স্বাগতিকদের। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে জুনায়েদ খানের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন গত দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান। এরপর দলীয় স্কোরে ৯ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফিরে যান বিশ্বকাপে দলের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এটিই ছিল পাকিস্তানের শেষ সফলতা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশের। সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম দলকে পৌঁছে দেন গন্তব্যে। নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন সম্ভাবনাময় তরুণ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। ১১০ বল থেকে তিনি সংগ্রহ করেন ১২৭ রান। ৪৩ বল থেকে ৪৯ রান করেন মুশফিকুর রহিম। এই জয়ের ফলে ৩-০তে সিরিজ জিতল টাইগাররা।
এর আগে বুধবার মিরপুর শেরে-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলী। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সতর্কভাবে শুরু করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আজহার আলী ও সামি আসলাম। দুজনে মিলে গড়েন ৯১ রানে দারুণ একটি জুটি। বাংলাদেশকে প্রথম সফলতা এনে দেন নাসির হোসেন। তার বলে উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়েন জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ইনিংস খেলতে নামা সামি। এরপর জায়গায় খেলতে আসা হাফিজকে বোল্ড করেন আরাফাত সানি। ব্যাক্তিগত প্রথম সেঞ্চুরি করার পরপরই সাকিবের বলে বোল্ড আউট হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলী। আউট হওয়ার আগে হারিস সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৯৮ রানের জুটি। এরপর দলীয় স্কোরে মাত্র ৪ রান যোগ হতেই দলীয় ২০২ রানের মাথায় মাশরাফির বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন হারিস সোহেল। এখানেই মূলত শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানিদের লড়াই। এরপর চলে আসা-যাওয়ার মহড়া। ১ ওভার বাকি থাকতেই ২৫০ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, আরাফাত সানি ও রুবেল হোসেন দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন।
প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর এই ম্যাচে দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। দলে জায়গা পান উমর গুল, জুলফিকার বাবর ও সামি আসলাম। বাদ পড়েন রাহাত আলি, সাইদ আজমল ও সরফরাজ আহমেদ।