কালকি কোয়েচলিন বলিউডে আছেন পাঁচ বছর ধরে। ভিন্ন ধারার ছবিতেই তাকে দেখা যায় বেশির ভাগ সময়। অনেক গ্ল্যামারাস নায়িকার ভিড়ে নিজেকে অসাধারণ করে তুলেছেন তিনি অনবদ্য অভিনয় দিয়ে। কালকি একজন সুঅভিনেত্রী—এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই। তার অভিনীত বেশির ভাগ চরিত্রই দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবার দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ভিন্ন ধারার এই অসাধারণ অভিনেত্রী। কালকি কোয়েচলিনের সাম্প্রতিক ছবি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
লায়লা সেরিব্রাল পালসি নামের একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত তরুণী। সে দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারে না। হুইল চেয়ারেই চলাফেরা করতে হয় তাকে। লায়লাকে নিয়ে মায়ের যত দুশ্চিন্তা। মা’ই তাকে বাইরে নিয়ে যায়। মেয়েটি ঠিকভাবে, স্পষ্ট করে কথা বলতে পারে না। অনেক সীমাবদ্ধতা অক্ষমতার পরেও লায়লা অন্য সবার মতো জীবন যাপন করতে চায়। তার মনেও ভালোবাসার অনুভূতি জাগে। সেও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়তে চায়। হালে মুক্তি প্রাপ্ত ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’তে তেমন একটি জটিল চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে আবারও অসাধারণ অভিনয়ের চমক দেখিয়েছেন কালকি কোয়েচলিন। প্রচলিত ধারার বলিউডি ছবিতে এ রকম নায়িকা চরিত্রের কথা ভাবাই যায় না। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের ব্যাপারে দুঃসাহসও নেই আজকের অনেক জনপ্রিয় প্রথম সারির বলিউড তারকা অভিনেত্রীর। কালকির অভিনয় জীবনে আরেকটি উজ্জ্বল সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’ ছবিটি। ভারতে মুক্তির আগেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত হয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা অর্জন করেছে এ ছবি। ছবিটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কালকি অভিনীত লায়লা চরিত্রটি। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী তরুণী লায়লাকে রুপালি পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। যা তার জন্য দুরূহ একটি কাজ ছিল। কিন্তু জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কালকির অসাধারণ অভিনয় সব দর্শকের হূদয় ছুঁয়ে গেছে। সবাই ছবিটি দেখে লায়লার প্রতি গভীরভাবে সহানুভূতিশীল হয়েছেন। আর এর জন্য সব কৃতিত্ব অভিনেত্রী কালকি কোয়েচলিনের। যার স্বীকৃতিও মিলছে। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি টরেন্টো চলচ্চিত্র উত্সবে। ‘দেব ডি’, ‘শয়তান’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’, ‘দ্য গার্ল ইন ইয়েলো বুট’, ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’, ‘সাংহাই’ প্রভৃতি ছবিতে ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি আগেই। সমসাময়িক বলিউডি অন্য অভিনেত্রীর মতো গ্ল্যামারাস কিংবা সুন্দরীও নন কালকি। জনপ্রিয়তার দৌড়ে অন্য নায়িকাদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলেও ভিন্ন ধারার অসাধারণ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ‘আমি জনপ্রিয় নায়িকা হতে নই, একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, এজন্য সব ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করে যাচ্ছি। কলগার্ল, খারাপ স্বভাবের মেয়ে, সাদামাটা তরুণী, প্রতিবন্ধী তরুণী—কোনোটিই বাদ দিচ্ছি না। দর্শক-সমালোচক সবাই আমার কাজের প্রশংসা করছেন, তাতেই আমি আনন্দিত,’ বলেন কালকি। সাম্প্রতিক ছবি ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’তে নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে এটাই ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। এ ছবির আগে আমি সেরিব্রাল পালসি রোগ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। অভিনয়ের আগে এ রোগে আক্রান্ত একজনের খুব কাছাকাছি গিয়ে অনেক কিছু জেনেছি, তার কথা বলার ধরন রপ্ত করেছি। ভীষণ পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাকে এজন্য। আমার পরিশ্রম-কষ্ট সবই সার্থক হয়েছে বলে মনি করি।’ তার এত পরিশ্রম আর কষ্টের ফলাফল হিসেবে স্বীকৃতিও মিলেছে। গত বছর ভারতের একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে টরেন্টো চলচ্চিত্র উত্সবে পুরস্কৃত হয়েছে ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’ ছবিটি। এ ছবি কালকিকে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বাবা-মা দুজনেই ফরাসি হলেও তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ভারতেই। মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসে পরিচালক-প্রযোজক অনুরাগ কাশ্যপের সহযোগিতা পেয়েছিলেন, যা কালকিকে ভিন্নধারার সিনেমার নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। অনুরাগ কাশ্যপকে বিয়ে করে কয়েক বছরে ঘর-সংসার করলেও কালকির দাম্পত্য জীবন শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এতদিন অনুরাগের ঘরানার ছবিতে তাকে বেশ দেখা গেলেও ‘মাগারিটা উইথ আ স্ট্র’ ছবির মাধ্যমে কালকি প্রমাণ করেছেন নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যেতে পারেন। এ ছবি তার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিকে অনেক শক্তিশালী করেছে। আগামী কয়েকটি ছবির কাজ নিয়ে এখন আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ভিন্ন ধারার অসাধারণ এই মেধাবী অভিনেত্রী।