ক্যামেরার পেছনে থাকতেই আমার ভালো লাগে

 
লুসি তৃপ্তি গোমেজ একজন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা। নবাবগঞ্জের দোহারে তার আদি নিবাস। জন্ম ঢাকাতেই। সেই ছোটবেলাতেই তার মায়ের সাথে থিয়েটারে আসতেন। তার মা একসময়ে ঢাকা পদাতিকের সদস্য ছিলেন। শিশু শিল্পীর প্রয়োজনে তার মঞ্চে ওঠা। কিন্তু মঞ্চে অভিনয় করবেন, টিভিতে অভিনয় করবেন এবং একসময় চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন—এমন কোনো ইচ্ছে অথবা প্যাশন তার ছিল না। তবে টিভিতে অভিনয় দেখে দেখে একসময় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে তার জীবনের আইডল করে নেন। উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় সত্যজিত্ রায়ের ছবি দেখতে দেখতে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন ছবি বানাবেন। ইন্টারমিডিয়েট পাস করে লুসি ভর্তি হয়ে যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে। সেখান থেকেই নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিষয়ে এমএ ডিগ্রি নেন। ১৯৯৫ সালে থিয়েটার সেন্টারে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তার স্ব-ইচ্ছের অভিষেক ঘটে। তারপর থেকে আর থেমে থাকেননি তিনি। ২০১২ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রে (নারী) অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার সাথে
 
কথা বলে উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেছেন পীযূষ সিকদার
 
নাটকে আসার শুরুর দিকটা যদি বলেন?
 
সত্য বলতে কী, নাটক করব... অভিনয় করব—এমন কোনো ইচ্ছে বা প্যাশন আমার ছিল না। মা অভিনয় করতেন। তাই থিয়েটারে আমার যাওয়া-আসা ছিল। শিশু শিল্পীর প্রয়োজন দেখা দিলে মায়ের হাত ধরে মঞ্চে ওঠে যাই। ওই ছোটবেলায় তো অভিনয় বুঝতাম না। কিন্তু অভিনয়টা যে আমার মধ্যে আছে তা ওই সময়ই অনেকে আমাকে বলেছিল। তারও অনেক পরে ১৯৯৫ সালের দিকে থিয়েটার সেন্টারে কর্মশালার মধ্য দিয়ে আমার মঞ্চযাত্রা  আরম্ভ হয়।
 
থিয়েটার সেন্টারে কী কী নাটকে অভিনয় করেছেন?
 
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের রচনা ও শহীদুল আলম সাচ্চুর নির্দেশনায় ‘কাহার’, মাসুম রেজার রচনা ও রেহানা সামদানি কনার নির্দেশনায় ‘শামুকবাস’, শম্ভু মিত্রের ‘এবার রাজার পালা’ ও আচার্য সেলিম আল দীনের ‘বাসন’ প্রভৃতি নাটকে অভিনয় করেছি।
 
এখন তো আপনি নাট্যকেন্দ্রে কাজ করছেন। কোন কোন নাটকে অভিনয় করেছেন? নাট্যকেন্দ্রে আপনার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাচ্ছি।
 
হ্যাঁ, তারিক আনাম খানের রূপান্তর ও নির্দেশনায় ‘দুই যে ছিল এক চাকর’, ‘বিচ্ছু’; ইউসুফ হাসান অর্কের নির্দেশনায় ‘ডালিম কুমার’, ‘আরজ চরিতামৃত’ নাটকে অভিনয় করেছি। আপনাকে তো বলেছি যে আমি নাটক নিয়ে পড়েছি। নাট্যকেন্দ্রে কাজ করে আমার নাট্য জীবন একটি মজবুত খুঁটির উপর দাঁড়িয়েছে—কী অভিনয়ে, কী নির্দেশনায়, কী আলোক পরিকল্পনায়, কী পোশাক পরিকল্পনায়। আচার্য সেলিম আল দীনের কাছে পেয়েছি একাডেমিক শিক্ষা আর শিল্প দর্শন।
 
নাটকের কোন মাধ্যমে নিজেকে বেশি মানানসই মনে করেন?
 
দেখুন, আমি যখন যা করি সিরিয়াসলি করি। অভিনয়টা করতে যেমন ভালো লাগে তেমনি চলচ্চিত্র বানাতেও এনজয় করি। আসল কথা হলো আমি ক্যামেরার পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকতেই ভালো লাগে।
 
২০১২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি যদি বলেন?
 
পুরস্কার মানে কাজের স্বীকৃতি। কাজের স্বীকৃতি কার না ভালো লাগে! আমারও ভালো লেগেছিল। এই পুরস্কার আমার জীবনের গতিকে একটি পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। ২০১২ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রের জন্য আমাকে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার দেওয়া হয়। যেটা আমি জেনেছি ২০১৪ সালে। কি যে ভালো লেগেছে আমার তা বুঝাতে পারব না!
 
সরকারি অনুদানে একটি ছবি নির্মাণে অভিজ্ঞতা কেমন?
 
একদিন ছবি বানাব এমন ইচ্ছে অথবা প্যাশন তো আমার ছিল। রবি ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকটি চিত্রনাট্য করে জমা দিলাম। পরিচালনার সুযোগও মিলল। কিন্তু এত লো বাজেট যে ছবি বানাতে গিয়ে অনেক আপস করতে হয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজের টাকা যোগ করে ছবিটার শুটিং শেষ করেছি। এখন পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আশা করি খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে। ‘ডাকঘর’ আমাকে যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার শক্তি দিয়েছে।
 
বিকাশ-এর বিজ্ঞাপনে অভিনয় নিয়ে কিছু বলুন।
 
বিকাশ-এর কাজ খুব সোজা পথে এগোইনি। অনেক পেইনের মধ্যে কাজটা করেছি। তবে বিকাশ বিজ্ঞাপনটি আমাকে অনেক পরিচিতি দিয়েছে।