বার্ন ইনস্টিটিউটে বিশ্বমানের সেবা পাওয়া যাবে

বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর ৯ লাখ মানুষ আগুনে পুড়ে আহত হয়। এসব রোগীর আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্সা সেবা দিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে আনার লক্ষ্যে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ মার্চ এ ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে এ ইনস্টিটিউটের জায়গায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৫০ বেডের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পাশেই চানখারপুলে জাতীয় যক্ষ্মা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ভেঙ্গে এর ১ একর ৭০ শতাংশ জমিতে বহুতল ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হবে। সাধারণত মেডিক্যাল কলেজের পাশেই ইনস্টিটিউট স্থাপন করতে হয়। এতে রোগীর চিকিত্সা সেবা পেতে সুবিধা হয়। এ কারণে এই জায়গাকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  স্বাস্থ্য ও  পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চানখারপুলে জাতীয় যক্ষ্মা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও এর চারপাশ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিয়ম করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগুনে পোড়া রোগীদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এজন্য চানখারপুল এলাকায় অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলদারদের উচ্ছেদে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় যক্ষ্মা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই জায়গায় বার্ন ইনস্টিটিউট করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন। প্রসঙ্গত, এক একর ৭০ শতাংশ জায়গার একটি অংশে সরকারি জাতীয় যক্ষ্মা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বাকি জায়গা দখল করে পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

 
প্রাথমিক কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হলেও জাতীয় যক্ষ্মা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজও সেখানে অব্যাহত থাকবে। এখানে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, বার্ন ইউনিট সম্প্রসারণের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. জুলফিকার আলী লেলিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালামসহ স্থপতি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।