রাজশাহীতে ট্রাক ও বাস চাপায় নিহত ৪

রাজশাহীতে ট্রাক ও বাস চাপায় স্কুল ছাত্রসহ চারজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে চারঘাট উপজেলা সদরে ট্রাকের চাপায় স্কুল ছাত্র মিনহাজুল ইসলাম মৃদুল (৮) এবং বিকাল সোয়া ৫টায় পুঠিয়ার তারাপুরে মোটরসাইকেল আরোহী তিন যুবক যথাক্রমে মেহেদী হাসান আপন (৩০), শুভ (২৮) ও সুমন (২৬) মারা যান। 
 
এদিকে, দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তারাপুরে প্রায় একঘণ্টা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের দুইপার্শ্বে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে একঘণ্টা পর পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ ও পুঠিয়া থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে অবরোধ প্রত্যাহার করায়। ফলে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে দ্রুত পালাতে গিয়ে মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি ট্রাকের নীচে ঢুকে যায়। 
 
পুঠিয়া সংবাদদাতা জানান, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার তারাপুরে রাজশাহী থেকে নাটোরগামী বাস খান ব্রাদার্স (ঢাকা মেট্টো-জ-০৪-০০৮৪) নাটোর থেকে বানেশ্বরগামী তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নীচে ঢুকে যায়। ফলে মোটর সাইকেল চালক আপন ও আরোহী শুভ ঘটনাস্থলে মারা যান। 
 
পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর আরেক আরোহী সুমন (২৬) মারা যান। নিহতদের সকলের বাড়ি নাটোরের কান্দিভিটা গ্রামে বলে জানা গেছে।
 
চারঘাট সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার সকালে সরদহ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মিনহাজুল ইসলাম মৃদুল মোটরসাইকেলের মাঝে বসিয়ে তার বাবা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও মা মিতা ইসলাম স্থানীয় একটি কোচিংয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সারদা ট্রাফিক মোড়ে বালু ভর্তি দ্রুতগামী ট্রাক পিছন থেকে তাদের চাপা দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃদুল ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং তার বাবা-মা গুরুতর আহত হন। 
 
তাদের আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে।