খালেদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইসি

 
নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্েদশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার রাতে এ সংক্রান্ত চিঠি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসারসহ ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং দুই সিটিতে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পোঁছে দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গাড়ির বহর নিয়ে ও রাস্তাঘাট আটকিয়ে যাতে খালেদা জিয়া প্রচার-প্রচারণা চালাতে না পারেন-সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
 
এ নির্দেশনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা আব্বাসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ বলেন, সরকার আগে যুবলীগ-ছাত্রলীগকে দিয়ে খালেদা জিয়ার প্রচারণায় বাধা দিয়েছিল। তা না পেরে এখন নির্বাচন কমিশনকে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে।
 
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোন শোভাযাত্রা করেন না। তিনি সচরাচর যে নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করেন, সেই নিরাপত্তা রক্ষীদের গাড়ি সাথে নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
 
অন্যদিকে সহস্র নাগরিক কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত কয়েকদিন যাবত তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, রাজপথ বন্ধ করে সভা-সমাবেশ, পথচারীদের চলাচলে বাধা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যানজট সৃষ্টি, মোটর শোভাযাত্রাসহ নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানাবিধ আইন বহির্ভূত কর্মকান্ডে  লিপ্ত রয়েছেন-যা জনগণের ভোটাধিকার হরণের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করার প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক কর্মকান্ডের নামান্তর। এ কর্মকান্ড সম্পূর্ণরুপে নির্বাচনী আচরণ, আইন, নিয়ম-কানুন ও বিধি বহির্ভূত। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।
 
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সংগঠনটির ওই আবেদন পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার দিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার এ সংক্রান্ত নথি ইসি সচিবালয় থেকে প্রস্তুত করা হয়। ওই ফাইলে উল্লেখ করা হয়, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধি মালার ৬-এর ১ ‘খ’ বিধিতে বলা আছে,‘জনচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করিতে পারে এইরূপ কোন সড়কে প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে কোন ব্যক্তি পথ সভা করিতে পারিবেন না।’ ৬-এর ৪ ‘খ’ বিধিতে বলা আছে, ‘ যানবাহন সহকারে মিছিল বা কোন রূপ শো-ডাউন করা যাবে না। বিধি ভঙ্গ করে খালেদা জিয়া প্রচারণা চালাচ্ছেন।’
 
ওই ফাইলে অনুমোদন নেয়ার জন্য শুক্রবার ছুটির দিনে ইসি সচিবালয়ের উপ সচিব মো. সামসুল আলম নির্বাচন কমিশনারদের বাসায় যান এবং তাঁদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ রাতে সিইসির অনুমোদন নিয়ে রাতেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। একাধিক নির্বাচন কমিশনার ইত্তেফাককে বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা বেগম খালেদা জিয়াকেও ইসির এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিবেন।   
 
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ বলেন, খালেদা জিয়া যেভাবে গাড়ি বহর নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তা নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘন। এ কারণে ওই ধরণের প্রচারণা বন্ধের পক্ষে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খালেদা জিয়ার উপর হামলা প্রসঙ্গে এ নির্বাচন কমিশনার  বলেন, এটি নিন্দনীয় ঘটনা এবং ফৌজদারী অপরাধ। তবে এ ধরণের অপরাধে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব পুলিশের।
 
চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু তিনি যেভাবে প্রচার চালাচ্ছেন তা আইনসঙ্গত নয়। এজন্য কমিশন থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রিটার্নিং অফিসার, ডিএমপি কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে।
 
এ বিষয়ে উত্তরের রিটার্নিং অফিসার শাহ আলম রাত সাড়ে ৯টায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের যে ব্যবস্থা নেয়ার তা নিয়েছি।’
 
ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এ ধরণের চিঠি পাঠানোর কথা শুনেছি।
 
এর আগে গত বুধবার ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা’-আচরণবিধি পরিপন্থী উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও মির্জা আব্বাসকে সতর্ক করে চিঠি দেন ঢাকার দুই রিটার্নিং অফিসার। সংশ্লিষ্ট দুই মেয়র প্রার্থী ও তাদের এজেন্টকে সতর্ক করে এই চিঠি দেয়া হয়।
 
নিজ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও মির্জা আব্বাসের পক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় গত শনিবার থেকে টানা পাঁচ দিন গাড়িবহর নিয়ে প্রচার চালান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
 
এরপর গত বৃহস্পতিবার বাদ রেখে গতকাল শুক্রবার বিকেলেও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার নতুন বাজার ও যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় একইভাবে প্রচারণা চালান তিনি। কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার উপর হামলার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দুই পক্ষ মামলা করে। ওই মামলা নিরপেক্ষভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে
 
গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান। সর্বশেষ গত বুধবার বাংলামটরে হামলার পর ওই দিন রাতে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বিএনপিপন্থি  সংগঠন ‘আদর্শ ঢাকা আন্দালন’-এর একটি প্রতিনিধি দল সিইসির বাসায় গিয়ে একটি অভিযোগপত্র দিয়ে আসে।
 
এছাড়া গত ২১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত দাবি জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।