উড়ে গেল পাকিস্তান

তৃতীয় ওয়ানডে শেষে সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের সামনে অনেকে মজা করছিলেন। একজন বললেন, বেশি ব্যাট করতে পারছেন না বলে মন খারাপ? সাব্বির-সাকিব সেদিন হেসেছিলেন।

 
গতকাল মুখে নয়, ব্যাট দিয়ে হাসি ছড়িয়ে দিলেন। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর এই দুই লেট-মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ছন্দময় আক্রমণে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতে নিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি; পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর সে ধারা ধরে রাখলো দল টি-টোয়েন্টিতেও।
 
১৪২ রান যে লক্ষ্য হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে একেবারেই মামুলি, সেটা বোঝাতেই যেন শুরু করেছিলেন তামিম। প্রথম বলে মোহাম্মদ হাফিজকে সম্মান দেখালেও পরের বলটিকে লং অনের ওপর দিয়ে ওভার বাউন্ডার হাঁকান তামিম। পরের দুই বলে একই কায়দায় লং অফ ও কাভারের উপর দিয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করেন।
 
ওভারের পঞ্চম বলটিকে স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে দ্রুত রান নিতে গিয়ে রান আউটের কবলে পড়েন অভিষিক্ত সৌম্য সরকার। কোনো বল মোকাবিলা করার আগেই সাজঘরে পথ ধরেন তিনি।  শুরুর ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেক বিপদ। উমর গুলের করা অপস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে হাফিজের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তামিম ইকবাল (১৪)। ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হওয়ার আগে ১৫ বলে ১৯ রান করেন মুশফিক। ৩৮ রানে টপঅর্ডার তিন ব্যাটসম্যানের বিদায়ের  পর সাকিবের সঙ্গে দলের হাল ধরেন সাব্বির রহমান রুম্মন।
 
আর এখান থেকেই আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। ওয়ানডেতে খুব বেশি ব্যাট চালানোর সুযোগ না পাওয়ার রাগটা যেন জমিয়ে রেখেছিলেন সাব্বির ও সাকিব। জুটিতে ১০৫ রান যোগ করার পাশাপাশি দুজনই হিসেব করে যেন ফিফটি তুলে নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব ৪১ বলে ৫৭ ও সাব্বির ৩২ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
 
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। উইকেটে নেমেই অভিষিক্ত মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে নড়বড় পাকিস্তান। ওয়াইড দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করলেও পাকিস্তানকে বেশ চাপে রাখতে সক্ষম হন মুস্তাফিজ। প্রথম ওভারে চার রান খরচ করলেও নিজের দ্বিতীয় ওভারে রান খরচের ব্যাপারে আরো সতর্ক মুস্তাফিজ। প্রথম স্পেলে দুই ওভারে মাত্র পাঁচ রান খরচ করেন।
 
প্রথম তিন ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ সাত্র সাত রান। চতুর্থ ওভার থেকে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের অভিষেক ব্যাটসম্যান মুক্তার আহমেদ। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পরপর দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৯ রান আদায় করেন। পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে ১৩ রান খরচ করেন আরাফাত সানি। পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২৯ রান।
 
তাসকিন আহমেদের বল লং অফের উপর দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন আহমেদ শেহজাদ (১৭)। রানের চাকা সচল করতে ব্যাটিং প্রমোশন নিয়ে তিনে ব্যাট করতে চলে আসেন  শহীদ আফ্রিদি। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসেই আফ্রিদিকে সাজঘরে ফেরান তরুণ বোলার মুস্তাফিজ। খানিক ব্যবধানে আরাফাত সানির শিকার ওপেনার মুক্তার আহমেদ (৩৭)।
 

শেষ পর্যন্ত হারিস সোহেলের অপরাজিত ৩০ রানের সুবাদে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ দলের ২০ রানের খরচায় দুই উইকেট নেন অভিষেক বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ।