পাবনার সুজানগর ও চাটমোহর উপজেলায় ভূমিকম্পের প্রভাবে শিক্ষক ও দুই স্কুলের অন্তত ৬৪ শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে অভিভাবক মহলে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সুজানগর উপজেলার শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও ৪০ শিক্ষার্থী এবং চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এদের মধ্যে চাটমোহরের নয় স্কুল ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জোরালো ভূমিকম্পে চাটমোহরে বিদ্যালয়ের ভবনসহ চেয়ার টেবিল নড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা পারভীনসহ ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণির অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ২০ শিক্ষার্থীকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে অভিভাবকরা ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। এর পরপর বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হলে সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরে যান অভিবাবকরা।
অন্যদিকে চাটমোহর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম জানান, ভূমিকম্পের সময় সকল শিক্ষার্থীকে বাইরে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ভীত হয়ে কয়েকজন ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম বিদ্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সেলিম মোরশেদ বলেন, ‘স্নায়ু দুর্বল মেয়েরা কোন কিছুতে ভয় পেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ক্ষেত্রে একজন মেয়ে জ্ঞান হারালে তার পাশে থাকা অন্য মেয়েরাও জ্ঞান হারাতে পারে। যেহেতু ভূমিকম্প একটি আতঙ্কের ব্যাপার সেহেতু শিক্ষার্থীরা ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সাধারণ চিকিৎসায় তারা ভাল হয়ে যাবে।’