দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। আর সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ১৮১ পয়েন্ট।শতাংশের বিচারে তা ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। একই প্রবণতা দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায় গেল সপ্তাহে সূচক কমে গেছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় মুনাফা তুলতে শুরু করেছেন। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বেশি দরপতন। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩২৮টি কোম্পানির শেয়ার ২ হাজার ৩৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় লেনদেন হয়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ২৫৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির। আর সিএসইতে ২৬৬টি কোম্পানির ২১২ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ২০৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির। আর সিএসইর সার্বিক সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫৮১ পয়েন্ট কমেছে।
এ দিকে, ডিএসইর সূচক কমে যাওয়ায় সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বর্তমানে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬ দশমিক ১৫ পয়েন্ট।
সপ্তাহ শেষে খাত-ভিত্তিক পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়—ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ৭ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ১৮ দশমিক ৬ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতে ১২ দশমিক ৫ পয়েন্ট, সাধারণ বিমা খাতে ৯ দশমিক ৩ পয়েন্টে, এনবিএফআই খাতে ১৪ দশমিক ৯ পয়েন্টে এবং বস্ত্র খাতে ১০ দশমিক ৬ পয়েন্ট।