ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ

 
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্তকৃত) ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিচার শুরুর জন্য চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
 
আদালত বলেছে, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। কিন্তু তারপরেও তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। যা একেবারেই আইনসিদ্ধ হয়নি। এজন্য অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া গেলো।
 
বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়ে রবিবার এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া রেলওয়ের ওই কর্মচারী নিয়োগে যে ঘুষ বাণিজ্য হয়েছিলো এবং তাতে কারা সুবিধাভোগী হয়েছে সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আলাদা করে অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মামলা বাতিলের জন্য অভিযোগপত্রভুক্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলবে মর্মে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
 
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং জালিয়াতির অভিযোগে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কোতয়ালি থানায় মামলা করে দুদক। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অর্থের বিনিময়ে চাকরি প্রার্থীদেরক চাকরি দেন ইউসুফ মৃধা। রেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হাফিজুর রহমান ছিলেন নিয়োগ কমিটির প্রধান। সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার গোলাম কিবরিয়া কমিটির সদস্য। এজাহারে এই তিনজনকে আসামি করা হয়। কিন্তু তদন্ত শেষে ইউসুফ আলীকে বাদ দিয়ে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম রাশেদুর রেজা মামলাটি তদন্ত করেন। পরে মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের তিন শিক্ষক আসামি তপন কুমার দাস, জহিরুল ইসলাম ও আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও আবেদনকারী পক্ষে এনওয়াই মশিউজ্জামান শুনানি করেন। রুলের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করে।
 
বিগত মহাজোট সরকারের আমলে ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল বিজিবি সদর দফতরের সামনে ৭৫ লাখ টাকার বস্তাসহ আটক হন ইউসুফ আলী মৃধা। বলা হচ্ছিল, নিয়োগে দুর্নীতি করে এ টাকা নেয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে তদন্তের পর ২০১১ সালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ১১৭ জনকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মৃধা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে এই মামলাটিও রয়েছে।