নার্সদের পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা অমানবিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মানব সেবার নার্সিং পেশা। চিকিত্সা সেবার উন্নয়নে নার্সিং পেশার বিকল্প নেই। নার্সিং পেশায় নিয়োজিতরা সেবার কাণ্ডারি। রোগীকে সুস্থ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন নার্সরা। নার্সিং পেশার উন্নয়ন হলেই কেবল সেবার মানোন্নয়ন হবে। চিকিত্সক ব্যবস্থাপত্র দিলেও স্বজনদের মতো করে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন নার্স। তবে দেশে চিকিত্সা বিজ্ঞানের সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও নার্সিং পেশা আজও অবহেলিত।  জানা যায়, ১৯৭৭ সাল থেকে ৫৬ জন নার্সিং এবং নন নার্সিং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে সেবা পরিদপ্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে জনবল প্রায় ২৬ হাজার। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সেবা পরিদপ্তর পরির্দশনে যান। ৩৮ বছর পর কোন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই প্রথমবারের মতো সেবা পরিদপ্তরে গেলেন।

 
সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মতিঝিলের ইস্পাহানি ভবনে সেবা পরিদপ্তরে মন্ত্রী মতবিনিময় করেন। এই ভবনের দুইটি ফ্লোর নিয়ে সারা দেশের সেবা পরিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ভাড়া অফিস থেকেই দেশের সেবার মান মনিটর করা হয়।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেবা পরিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা দেখে বিস্মিত হন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার আয় রোজগারের উত্স এটি। একজন এন্টি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করে সেই পদে থেকেই অবসর নেন। স্থায়ী কোন পদোন্নতি হয় না।
 
দায়িত্ব পালন করেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং চলতি দায়িত্বে পরিচালক পদে। তবে সূচনালগ্ন থেকেই সেবা পরিদপ্তরে নিয়োগ বিধি নেই। নেই স্থায়ী কোন পদ। বহুবছর ধরেই চলছে এই অব্যবস্থাপনা। মন্ত্রণালয়ে দেন-দরবার করেও কোন কাজ হয় না।
 
সারা বিশ্বে স্বাস্থ্যখাতের এক নম্বর বিষয় হলো নার্সিং। তবে আমাদের দেশে কতিপয় দুর্নীতিবাজদের কারণে এই খাতের বেহাল অবস্থা। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সেবা পরিদপ্তরে ২২ জন পরিচালক দায়িত্ব পালনে করছেন। এদের মধ্যে স্থায়ী পরিচালক ছিলেন মাত্র দুইজন। প্রথম পরিচালক রহিমা খাতুন এবং তৃতীয় পরিচালক শাহজাদী হারুন ছিলেন স্থায়ী পরিচালক। এছাড়া বাকি ২০ জন ছিলেন ভারপ্রাপ্ত কিংবা চলতি দায়িত্বে থাকা পরিচালক।
 
মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে সকল অভিযোগ-অনুযোগ শোনেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সেবা পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। স্বাস্থ্য পরিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিলুফার ফরহাদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল ও নার্সিং) মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম-সচিব (নার্সিং) গৌতম আইচ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিক্যাল অ্যাডুকেশন) অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান ও পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সামিউল ইসলাম সাদি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সর্বপ্রথম নার্সদের মর্যাদা দিয়েছেন। তার আমলেই নার্সদের যত উন্নয়ন। নার্সরা জনগণের সেবার সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে সেবা পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হবে। নার্সদের পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা অমানবিক।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নার্সরা রোগীদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রীও নার্সদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তাই এই সেবা পরিদপ্তরের কার্যালয়কে ভাড়া বিল্ডিংয়ে না রেখে মহাখালীতে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে তাদের কার্যালয় সেখানে নেয়া হবে।
 
মতবিনিময় সভায় নার্সদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংশ্লষ্টি সকলের সঙ্গে কথা বলে আপনাদের সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেন, সেবার মান উন্নয়ন করতে হলে নার্সিং পেশার উন্নয়ন করতে হবে। নার্সিং পেশার উন্নয়ন না হলে কোনভাবেই সেবার মানোন্নয়ন হবে না।
 
জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা এন্টি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দিয়েছেন। তবে নিয়োগ বিধি এখনো করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। বিষয়টি অবহিত করলে মন্ত্রী বিস্মিত হন।
 

মূলত বিধি না থাকায় স্থায়ী পদোন্নতিতে বাধা। এছাড়া দেশে ডক্টরেট ও এমপিএস কোর্স করাসহ কয়েকশ দেশ-বিদেশের উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স রয়েছেন। পদ না থাকায় তারাও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে আছেন।