চোখের চিকিত্সক হতে পেরে আমি আল্লাহর আছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ চিকিত্সকরা মানুষের রোগমুক্তি করে তাদের ভরসা অর্জন করে। চোখের চিকিত্সার ক্ষেত্রে এর সাথে অন্য এক মাত্রা যোগ করে। আমরা চোখ বন্ধ করে থাকলেও কিন্তু সেই অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারবো না, যা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে হয়। হাজারো আলো থাকলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কোনদিন চোখ খুলে আলো দেখতে পায় না। সেরকম একজন মানুষকে চোখের আলো ফিরিয়ে দিলে তার অন্য এক কৃতজ্ঞতাবোধ জন্মে, তাতেই মন ভরিয়ে দেয় আমাদের। তাই মনে হয় চোখের চিকিত্সক হয়ে জীবনে মানুষের জন্য কিছু করার সুয়োগ পেয়েছি। এভাবেই নিজের পেশা নিয়ে বলেন আভা হোসেন। আভা বর্তমানে গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। জীবনে কোথাও তিনি হোঁচট খাননি। তার জীবনে রয়েছে শুধু অর্জনেরই কল্পকথা। অধ্যাপক আভা হোসেন সার্ক একাডেমী অব অপথ্যালমোলজি, বাংলাদেশ চক্ষু চিকিত্সক সমিতি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি অপথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। অর্জন করেন চক্ষু চিকিত্সক হিসেবে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার আলীম ম্যামোরিয়াল গোল্ড মেডেল। বিভিন্ন দেশে সভা, সেমিনারে অংশগ্রহণ আর পড়াশুনার অভিজ্ঞতা তাকে সমৃদ্ধ করেছে মানুষ হিসেবেও। তাই তিনি নানাভাবে মানুষেরও সেবা করেন। আভা বলেন, আমার ছেলেবেলা কেটেছে মির্জাপুর ভারতেশ্বরী হোমসে। বাবা বঙ্ক বিহারী বণিক কুমুদিনী হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ছিলেন। মা কিরণ বালা বণিক নিতান্তই গৃহিণী। সাত ভাই এক বোন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আমি খুব আদরে বড় হই। বাবা-মা চাইতেন আমি যেন চিকিত্সক হই। আমারও ইচ্ছা ছিল। সব মিলিয়েই ডাক্তার হওয়া। তবে আমার ওপর ভারতেশ্বরী হোমসের বেশ প্রভাব আছে। সেই প্রতিষ্ঠানেতো পড়াশুনা শুরু করি। জ্যাঠা মণি রায় বাহাদুর রনদা প্রষাদ সাহার বিশেষ স্নেহ পেয়েছি আমি। এই যে এশিয়া প্যাসিফিক সহ-সভাপতি হলাম প্রতীভা মুদসুদ্দি সুন্দর একটা অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছেন পড়েই চোখে জল আসে। আমি মনে করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার আর চারপাশের সহযোগিতায়ই মানুষ সফল হয়। অক্লান্তভাবে পরিবারের সহযোগিতা না থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হয়। আমার বাবা-মা ভাইবোন তো অবশ্যই, তারপর সহপাঠী, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে বিশেষ সহযোগিতা করেন। আমি মনে করি নারীরা অবশ্যই স্বামীর সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে। কারণ নারীর কিন্তু বিয়ে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। সংসার, স্বামীর জন্যই আমার অনেক শিক্ষার্থী পিএইচডি করার সুযোগ হাতছাড়া করে। ডাক্তারী পড়েও গৃহিণী হয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তারি পেশা কিন্তু মেয়েদের জন্য আদর্শ পেশা। কারণ একজন মমতাময়ী ডাক্তার যখন আবেগ নিয়ে রোগীর হাত ধরে তখন রোগীর যে আস্থা ফিরে আসে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্বামী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন।