শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় হবে তা বুঝতে পেরেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। তবে এতে কোন কাজ হবে না। তার ভণ্ডামীর মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানো ও আন্দোলন দুটোতেই উনি ব্যর্থ হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ভুল সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনের নামে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করায় জনগণের পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থক কেউই এখন আর খালেদা জিয়ার পাশে নেই।
সোমবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতেই এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আন্দোলনের নামে ৯২ দিন ধরে নাশকতা চালানোর পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে খালেদা জিয়ার ঘরে ফিরে যাওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরে আমির হোসেন আমু বলেন, খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না। কিন্তু ৯২ দিন কোন অর্জন ছাড়াই ঘরে ফিরে যাওয়ায় বিএনপি অনেক নেতাকর্মী অভিযোগ তুলেছে যে, খালেদা জিয়া আঁতাত করেছেন। নেতাকর্মীদের রোষাণলে পড়ার ভয়ে উনি রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মিথ্যাচার করে আবারো আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। তবে এর মাধ্যমে খালেদা জিয়া নিজেই তার ভণ্ডমীর মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
‘পুড়িয়ে মানুষ হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের হাত রয়েছে’ মর্মে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে আমির হোসেন আমু বলেন, তার বক্তব্য হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা যে নাশকতা চালিয়ে, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে তা আজ জাতির সামনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, দুর্নীতির যে মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার চলছে তাতে তার যে সাজা হবে এটা খালেদা জিয়া নিশ্চিত হয়ে গেছেন। মামলা থেকে বাঁচার জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চরম মিথ্যাচার করছেন।
আমু বলেন, সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট কারচুপির কোন রেকর্ড আওয়ামী লীগের নেই। নির্বাচনে বিজয়ী হলে সুষ্ঠু নির্বাচন, আর পরাজিত হলে কারচুপির অভিযোগ তোলা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। পেট্রোল বোমার আন্দোলনে বিফল হয়ে উনি নির্বাচনে এসেছেন।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেকে সংশোধন করুন। মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে রাজনীতি হয় না। মিথ্যাচার আর ভন্ডামির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা যে আপনাকে পরিত্যাগ করেছে সেটি কি বুঝতে পারেন না? তিনি বলেন, মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না। কারণ মানুষ এখন অনেক সজাগ ও সচেতন।
আমু বলেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না। চট্টগ্রামের আমির খসরু মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল নোমানকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা প্রার্থী হতে রাজি হননি। আবদুল আউয়াল মিন্টু ছিলো তার দলের প্রার্থী। কিন্তু সে কোন কারণে প্রার্থী হতে পারেননি। তার ছেলে না কে প্রার্থী হয়েছে। তাকে কেউ চেনে না। নির্বাচনে প্রার্থী দিতেও ব্যর্থতা ও দেউলিয়াত্বর পর নিজের পদ টিকিয়ে রাখার জন্য খালেদা জিয়া মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ প্রমুখ।