প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশীট দিয়ে তাদের বিচার সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।
সোমবার সচিবাললে মন্ত্রিসভা পক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বগুড়া ও সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ এবং ঝিনাইদহ, নড়াইল, জয়পুরহাট ও সিরাজগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন জ্বালিয়েছে তাদের গ্রেফতার করা ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরই যথেষ্ট নয়। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশীট দিয়ে তাদের বিচার সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ব্যবস্থা করা না হলে দুষ্কৃতিকারীরা আদালত থেকে জামিন নেয়ার পর আবারো এ ধরনের নৃশংস কর্মকান্ড চালাবে।
শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। যারা জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে তাদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। এজন্য জনগণের জীবন নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সন্ত্রাসীদের দমনে বেশি নজর দিতে পারেনি। কারণ ওই সময় সরকার উন্নয়নের উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে আমাদের খেসারত দিতে হয়েছে। সে সময় আমরা দেখেছি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবিরাম হরতাল ও অবরোধ এবং বিএনপি-জামায়াত চক্রের মানুষ হত্যা ও নির্যাতন। শেখ হাসিনা বলেন, এসব কিছু দেখে আমি মনে করি নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান ও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে।
খেলাধুলার বিষয়ে আগ্রহের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে। এ জন্য স্কুল-কলেজের মাঠের বাইরে আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।