২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে এ বছরের ২৮ এপ্রিল। দীর্ঘ ১৩ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন। বিভক্ত ঢাকায় প্রথমবারের মতো ভোট।
২০০৭ সালে আগের সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নগরীর রাজনীতি অনেক চড়াই-উত্রাই দেখেছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগের প্রথম ৫ বছর এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের সময়ে কয়েকবার অবিভক্ত ও বিভক্ত ঢাকা সিটি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। একাধিকবার তফসিল ঘোষণার পরও আলোর মুখ দেখেনি সিটি নির্বাচন। সীমানা জটিলতা নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশায়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল নির্বাচন। সবমিলিয়ে সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। সব সন্দেহ-জল্পনার নিরসন ঘটিয়ে আজ ঢাকাবাসী মেতে উঠবেন ভোট উত্সবে। তবে ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
১৯৯৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রাথী মোহাম্মদ হানিফ বিজয়ী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাস নির্বাচনে পরাজিত হন। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা নির্বাচিত হন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) ভোটের পর ২০০৭ সালের মে মাসে ডিসিসি নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় তিন বার নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হলেও আইনি জটিলতায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
২০১১ সালের ৩০ নভেম্বরে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ ও ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর নামে দুই ভাগ হয় ডিসিসি। এর আগে থেকেই দুই সিটির সীমানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির তফসিল ঘোষণা করলেও আইনি জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
২০১৩ সালের ১৩ মে ডিসিসির দুই ভাগে নির্বাচন নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে ভোট আয়োজনের ওপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নেয়; কিন্তু পরবর্তীতে তেজগাঁও সার্কেলভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি পাড়া-মহল্লা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করায় সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হয়।
গত বছর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৪’ -এর খসড়ায় সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের মেয়াদ ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটি নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেন।
১৩ বছর পর নগর প্রধান নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে উত্সবের আমেজ তৈরি হয়েছে।