আজ মঙ্গলবার তিন সিটির নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি-না তা নিয়ে এখনো সংশয়ে আছে বিএনপি। দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকতে পারবেন কি-না তা নিয়েও দলে দেখা দিয়েছে উত্কণ্ঠা। দলের নেতারা বলছেন, সেনা মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, মাঠে সেনা না থাকা, ইসির প্রশ্নবিদ্ধ নানা সিদ্ধান্ত, বিরোধী দলীয় প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের পুলিশি হয়রানি, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে পর পর হামলা এবং কয়েকজন প্রার্থীর গ্রেফতারের প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার আশংকা করছেন বিএনপি সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। গতকাল তাবিথ নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বলেন, বর্তমান সহিংস পরিস্থিতিতে আমি নিজেকে অনিরাপদ বোধ করছি। সশস্ত্র নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তাহীন মনে করছি। গতকাল রাজধানীর উত্তর সিটির কয়েকটি ভোট কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের টানানো পোস্টার কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বিএনপিকে বিরাট প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। আমরা পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের দিকে এসেছি। আমাদের ভেতর সংশয় কাজ করছে । কি হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। দক্ষিণ সিটি করপোরশেন থেকে নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মির্জা আব্বাস একদিনও ভোটারের কাছে যেতে পারেননি। এমনকি ৩৬ জন কাউন্সিলরও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেননি। তারা আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি নীল নকশার নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ইত্তেফাককে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা চরমভাবে সন্দিহান। আমাদের এজেন্টরা শংকিত। পুলিশ তাড়া করছে আমাদের প্রার্থী এজেন্ট নেতা-কর্মীদের। তার ভেতর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিন মনিটরিং সেল
আজ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনিটি মনিটরিং সেল কাজ করবে। এর একটি থাকবে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে, একটি বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে এবং একটি আদর্শ ঢাকা আন্দোলন অফিসে। গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানান হয়। আর বেগম জিয়া তার বাসায় থেকেই পুরো প্রক্রিয়া মনিটরিং করবেন। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিটি নির্বাচন উপলক্ষে মনিটরিং সেল সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করবে। একটি হটলাইনও সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। তিন সিটির বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ভোটের তথ্য গণমাধ্যমকে জানাবে এই সেল।
ফল ঘোষণা না হওয়া অব্দি
কেন্দ্রে থাকার নির্দেশনা
ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকার জন্য চেয়ারপার্সনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল হান্নান শাহ বলেন, বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের বলে দিয়েছি এবং সব কিছু মনিটরিং সেলকে অবহিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরবাসীকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নীরব বিপ্লব ঘটানোর আহবান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।