ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সুরিটোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ৫৬৪, ৫৬৫ ও ৫৬৬ নম্বর কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। ৫৬৪ নম্বর কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নীতিশ কুমার জানান, কতগুলো লোক দলবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে ব্যালট পেপারে সিল মারার জন্য তোড়জোড় শুরু করে। এতে বাধা দেয়ায় হাঙ্গামা হয়। ফলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে ৫৬৬ নম্বর কেন্দ্রর প্রিজাইডিং অফিসার লুত্ফর রহমান জানান, আমাদের কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হয়নি। পাশের কেন্দ্রের হাঙ্গামার কারণে আমাদের কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে শত শত লোক ভোট দেয়ার জন্য বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঐ এলাকায় ব্যাপক সংখ্যা র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কমিশনার আহাদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
এদিকে ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলপ্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণার পর আবার শুরু হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে প্রিজাইডিং অফিসার কাজী মাহফুজুর রহমান মেয়র পদে ইলিশ মার্কায় সাঈদ খোকনের ২০-২৫ জন পুলিং এজেন্ট জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাদের সাথে তার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়। এরপর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ১২টা ৪০ মিনিটে ভোট শুরু হয়
এছাড়া বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, কবি নজরুল কলেজ, বাংলাবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার ও সাংবাদিকদের কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, শ্যামপুর, কদমতলী, সবুজবাগ ও বাসাবো এলাকার ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শম্পা বসু অভিযোগ করেছেন, সিদ্ধেশ্বরী গালর্স কলেজ কেন্দ্রে সকাল আটটার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। পোলিং অফিসাররা ব্যালটে সিল মেরে ভর্তি করেছেন। আমার এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বাড্ডার শ্রমিকদের ভিকারুন্নেসা স্কুলের ভোটকেন্দ্রের ভোটার নন, তারাও সেখানে ভোট দিচ্ছেন। তাদের জোর করে ধরে আনা হয়েছে। আমরা গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের সাথে জড়িত সেহেতু আমরা তাদের চিনি।
৩৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু জোবায়ের মোহম্মদ মিরাতুল্লাহর পোলিং এজেন্ট ফারজানা জুবায়ের বলেন, আমাদেরকে পোলিং এজেন্টরা ব্যালট পেপার দিতে না পারায় ভোট দিতে পারিনি। এছাড়া আমাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
যাত্রাবাড়ীর শিশুকল্যাণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের (মগ মার্কা) সকল এজেন্টদের পুলিশ বের করে দিয়েছে পুলিশ। এজেন্টদের অভিযোগ যে পুলিশ তাদের বের করে দিয়েছে তার পোশাকে কোনো নাম নেই। কেন্দ্রে সাংবাদিকসহ কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাফরুলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকরা একটি কেন্দ্রে একে অপরের প্রতি কারচুপির অভিযোগ এনে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর প্রায় দেড়ঘণ্টা ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
জানা গেছে, উত্তরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদা বেগমের সমর্থকরা বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদুর রহমানের এজেন্টেদের মারধর করে বের করে দিলে এ সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের সমর্থকরা ভাঙচুর চালালে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন। এ সময় কেন্দ্রে কয়েকটি ব্যালটবক্স ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।