ভারতীয় উপমহাদেশে বড়সড় ভূমিকম্প হলেই চলে আসে হিমযুগের মধুপুর ভূকম্পন বলয়ের নাম। বাংলাদেশের তিনটি প্রধান ভূমিকম্পন বলয়ের মধ্যে মধুপুর অন্যতম। শনি ও রবিবার নেপালে বড় মাত্রায় ভূমিকম্পে মধুপুরসহ রাজধানী ঢাকা দুলে উঠে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর নেতৃত্বে পরিচালিত ইউএনডিপির গবেষণায় দেখানো হয় বাংলাদেশের ভূকম্পন বলয়সমূহের মধ্যে মধুপুর ফল্ট বিপজ্জনক। মধুপুর ফল্টের দূরত্ব মাত্র ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হওয়ায় রাজধানী ঢাকায় রাতের বেলায় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৯০ হাজার লোক হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর দিনের বেলায় আঘাত হানলে হতাহত হবে প্রায় ৭০ হাজার লোক। এতে ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণরূপে এবং ৮৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৯১০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষণায় ভূগোলবিদ ডিলাটিসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, মহাহিম যুগে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট মধুপুর গড়ের ভূঅভ্যন্তরে একাধিক ফাটল রয়েছে। কাজেই ভারতীয় উপমহাদেশের কোথাও বড়সড় ভূমিকম্প হলে তার প্রতিক্রিয়ায় মধুপুর ফল্টে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ মধুপুর এলাকায় দেড় দশক ধরে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের ম্যানেজার বাপন মানকিন জানান, মধুপুর ফল্টের দরুন ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও ভূচ্যুতির এলাকায় অবস্থিত টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রশীদ চুন্নু জানান, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের জন্য মধুপুরে একটি সিসমোগ্রাফিক টাওয়ার রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ এটি পরিচালনা করে। এখানে সবসময় কোন লোক থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মাঝে মধ্যে এসে ভূকম্পন মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে যান।