পুলিশ বের করে দিয়েছে পোলিং এজেন্টদের

 
সকাল ১১ টা। শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যেতেই দেখা গেল, নেমপ্লেট বিহীন (নামের স্টিকার নেই) পুলিশের দুইজন এসআই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ও মেয়র পদপ্রার্থী ব্যতীত অন্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।
 
এসআইয়ের ব্যাজ ধারণকারী ওই দুই পুলিশকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আর নেমপ্লেট না থাকার কারণ জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করতে থাকেন।
 
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পাশ ছাড়া মোটর সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সাঈদ খোকনের নির্বাচনী স্টিকার সংবলিত ৭টি মোটর সাইকেল যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শো-ডাউন দিতে দেখা গেছে। এর মধ্যে শুধু একটি মোটর সাইকেলের নম্বর রয়েছে (ঢাকা মেট্রো ল- ২৩- ৪৭৫৮)। পুলিশের সামনেই এ শো-ডাউন দেয়া হয়।
 
দুপুর দেড়টা। পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে গিলে দেখা গেল কেন্দ্রের ভেতর আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সায়েম খন্দকার ও মেয়ার প্রার্থী সাঈদ খোকনের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কোন এজেন্ট নেই।
 
৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই কেন্দ্রে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনী শংকর নিজেই তার এজেন্টদের বের করে দেন।
 
এরপরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সায়েম খন্দকারের কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারতে থাকে। উপস্থিত ভোটাররা জানান, যাত্রাবাড়ী থানার ওসি নিজেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া অন্য সব কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছেন।
 
এদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকার শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, দোলাইরপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, এ কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কোন এজেন্ট নেই। ভোটারও খুব কম।
 
এ ব্যাপারে কথা বলে জানা গেছে, কিছু কেন্দ্রে সকালে এজেন্ট থাকলেও পুলিশ তাদেরকে বের করে দিয়েছে। আর কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট বসতেই দেয়া হয়নি। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষ থেকে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে তাদেরকে বসতে দেয়া হয়নি।