সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বলেছে, সরকারের অধীনে যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় তা আবারো প্রমাণিত হলো।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়ে এ কথা জানিয়েছে দল দুটি। একই সঙ্গে সিপিবি-বাসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে।
সিপিবি-বাসদের নেতারা বলেন, এই নির্বাচন অতীতের ভোট কারচুপির সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা তাদের বিরোধী সকল দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে সিটি কর্পোরেশন দখল করে নিলো। এই নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন। এই নির্বাচন জনগণ মানে না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এতো মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন আমি আর দেখিনি। আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশনকেও এই নির্বাচন কমিশনার লজ্জা দিয়েছে। পুলিশ-র্যাব দলীয় কর্মীর ভূমিকায় ছিল। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’
তিনি বলেন, প্রথমে নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন, এখন গায়ের জোরে নির্বাচন হল। দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রের সংগ্রাম নির্বাসিত হয়ে গেল। পাকিস্তান আমল থেকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধেও গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। কিন্তু এখন দেশে আর গণতন্ত্র রইল না।
সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণের সিপিবি-বাসদ সমর্থিত দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক মারা হলো। জালভোটের জন্য পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামানের কাছে অভিযোগ করেছি। তিনি আমায় বললেন, এটা দেখার দায়িত্ব তার না। এটা প্রিজাইডিং অফিসারের দেখার বিষয়।
উত্তরের সিপিবি-বাসদ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, ‘যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশ যেভাবে ভোট কেন্দ্রে পাহারা বসিয়েছিল, তাতে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কেন্দ্রে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুলিশের যে আচরণ তাতে তাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী মনে হয়নি। তাদের দলীয় কর্মীর মতো মনে হয়েছে।