ফের সহিংসতা হলে যথাযথ ব্যবস্থা

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত যদি দেশে আবারো সহিংসতা শুরু করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কারণ জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করা হবে। জনগণের জীবন নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। তিনি জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে গণতন্ত্রের পথে আসতে ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।

 
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডে অবস্থিত ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইলিশ’, ‘ঘুড়ি’ ও ‘পানপাতা’ প্রতীকে তিনি ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা অর্থাত্ তিনি যাদেরকে           ভোট দিয়েছেন তারা বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ তা মেনে নেবে। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য রাজনীতি করে।
 
২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দল ওই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেবেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।
 
নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হলে তারা ফের আন্দোলনে নামবে বলে বিএনপি’র হুমকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মানে হচ্ছে যে বিএনপি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয় না। তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না। কারণ জনগণের রায়ের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল নয়। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির বলা উচিত, জনগণ যে মতামত ও রায় দেবে এবং যেসব প্রার্থী বিজয়ী হবে, দল তা মেনে নেবে।
 
বিএনপি-জামায়াত সামপ্রতিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের রাজনীতি হচ্ছে হত্যা ও মানুষ পোড়ানো। এভাবে তারা কত প্রাণ কেড়ে নেবে এবং কত মানুষের জীবন নিয়ে খেলবে। তিনি বলেন, তারা আমাকেও হত্যা করতে বার বার হামলা চালিয়েছে। তাদের একমাত্র অভিসন্ধি হচ্ছে আমাদের চিরতরে নির্মূল করা। এসময় তিনি বিএনপি সমর্থকদের ইঙ্গিত করে বলেন, যদি তাদের হাত জ্বলন্ত মোমবাতির উপর ধরে রাখা যায়, তবেই তারা অগ্নিদগ্ধ মানুষের কষ্ট ও আর্তনাদ বুঝতে পারবেন।
 
গতরাতে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণকালে বিএনপির কয়েকজন সমর্থককে গ্রেফতার করা সম্পর্কে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ভালো করেই জানে যে ভোটাররা তাদের প্রার্থীকে ভোট দেবে না। এ জন্য তারা টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া টাকার বিনিময়ে সবকিছুই করতে পারেন। তার দল ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
 

প্রধানমন্ত্রী জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আমি আশা করি যে আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন, যা জনগণের সেবার পাথেয় হবে। তিনি বলেন, ’৭০ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছি। আজ যখন ভোট দিলাম তখন মনে হলো আমি আমার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছি। আমার পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম, এ জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিক এবং ভোটের অধিকার প্রয়োগ করুক এটাই আমি চাই।