সুন্দরবনে বাঘের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে গেলেন আবুল হাসেম মোল্লা (৫৫) নামের এক মৌয়াল।
প্রথমে বাঘটি হাসেমের পেছন থেকে ঘাড় বরাবর আক্রমণ করে। তার পিঠে মধুর ড্রাম ঝুলানো থাকায় প্রথম থাবাটি ওই ড্রামের ওপর দিয়ে যায়। বাঘটি আবারো আক্রমণ করে তার ডান হাতে থাবা বসায়। এ সময় বাঘের সঙ্গে তার প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধস্তাধস্তি চলে। একপর্যায়ে তার ডাকচিৎকারে সঙ্গীয় মৌয়ালরা ছুটে এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘের ওপর পাল্টা আক্রমণ করলে বাঘটি বনে পালিয়ে যায়। বাঘে-মানুষে এ লড়াইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি ফরেস্ট স্টেশনের কোকিলমুন এলাকায়।
পরে সঙ্গীয় মৌয়ালরা গুরুতর আহত আবুল হাসেমকে উদ্ধার করে কোকিলমনি কোস্টগার্ডের টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ট্রলারে করে শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে পাঠান। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
বুধবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আহত আবুল হোসেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বনসংলগ্ন উত্তর সাউথখালী গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সঙ্গী মৌয়াল আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা (৪৫) জানান, গত ১০ এপ্রিল আটজনের একটি দল শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন থেকে দুই মাসের অনুমতি (পাস) নিয়ে মধু আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বনের কোকিলমনি এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে গেলে হঠাৎ একটি বাঘ আবুল হাসেমকে আক্রমণ করে। বাঘটি পেছন থেকে ঘাড়ে আক্রমণ চালালে পিঠে থাকা হাসেমের মধুর ড্রামে থাবা বসে। পরে আবারো তাকে আক্রমণ করে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট বাঘের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তার ডাক চিৎকারে সঙ্গে থাকা অন্যরা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।