ট্রাইব্যুনালের সাজার বিরুদ্ধে আপিলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে: হাইকোর্ট

 

 
 
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওই সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে আবেদন গ্রহণ করা না করার এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে আপিল বিভাগের।
 
এ সংক্রান্ত রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
 
ট্রাইব্যুনাল অবমাননার দায়ে ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজার বিষয়ে বিবৃতিদাতা নাগরিকদের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ১২ জন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না মর্মে একটি রুল বিচারাধীন রয়েছে। রিটে অবমাননার এ মামলা স্থগিতের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আইনের ওই দুটি ধারায় অবমাননাকারীদের আপিলের অধিকার নিশ্চিত না করা ‘কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না’- তা জানতে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ১১(৪) এবং ২১ ধারা দুটি একসঙ্গে পড়লে দেখা যায়, মানবতাবিরোধীদের আপিলের অধিকার দেওয়া হলেও যারা আদালত অবমননার দায়ে সাজা পেয়েছেন তাদের আপিলের অধিকার দেওয়া হয়নি। এটি সংবিধানের ২৬, ২৭, ৩১ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ পরিপন্থি। ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারায় আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ড এবং ২১ ধারায় আপিলের অধিকারের বিষয়ে বলা রয়েছে।
 
আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার আকতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণসহকারে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়।
 
রাশনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল আইনে কেউ দণ্ডিত হলে তিনি সংবিধানের ১০৪ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।
 

আমাতুল করীম বলেন, সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে ট্রাইব্যুনালের আইনকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা হাইকোর্টের বিচারকদের সমমর্যাদার। তাই ট্রাইব্যুনালের যে কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।