নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজকে জমি সংক্রাস্ত বিরোধের জের ধরে (৪৫) হত্যার অভিযোগে এক নারীসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
একই আদালত একই মামলার অপর তিন আসামিকে এক বছর করে কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ বুধবার সকাল ১১টায় এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন, পাবই গ্রামের মৃত আবাল হোসেনের পুত্র আ. হামিদ (৪০), মৃত রইছ উদ্দিনের পুত্র উজ্জল মিয়া (২৩), হেলাল মিয়া (৪০), রব্বানী (৪৫) ও রেহানা বেগম ওরফে রীনা বেগম (৪৭)। এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন, আ. হামিদের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৩০), হেলাল মিয়ার স্ত্রী রওশনারা (২৮), আবাল হোসেনের মেয়ে নাদিয়া বেগম (৩০)। তবে উজ্জ্বল মিয়া এবং হেলাল পলাতক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাবই গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের সাথে একই গ্রামের আ. হামিদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিগত ২০০৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটার দিকে আ. হামিদ লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির আইল ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ ফাজিলপুর বাজার হতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইল ভাঙতে তাদের বাঁধা দেয়। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুল আজিজের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে। স্থানীয় লোকজন আহত আজিজকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজ হাসপাতালে মারা যান। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি মৃতের স্ত্রী মোছা. জাহানারা বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৬ জুন সকল আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। বিজ্ঞ বিচারক উভয়পক্ষের স্বাক্ষ্য প্রমাণাদি গ্রহণ করে বুধবার এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি মো. আব্দুল কাদির ভূঁইয়া, আর আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মাহফুজুল হক।