পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত রাখা বাঞ্ছনীয়। আমাদের দেশ থেকে প্রতিহিংসা-হিংসা-জিঘাংসার রাজনীতি দূর হোক আল্লাহর কাছে এ আমাদের প্রার্থনা এবং তা অর্জনের জন্য এখনই সময়। স্বাধীনতা পরবর্তী কালের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক বলে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব।
এ সময় তিনি উপস্থিত জনগণকে প্রশ্ন করেন অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন কি দেশে উন্নয়ন কাজ করার জন্য অধিক উপযুক্ত পরিবেশ বজায় আছে কিনা। তাহলে আমাদের এই ইতিবাচক পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করা অবশ্যই কর্তব্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী ও জিয়ানগর উপজেলায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আরো বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমরা কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ধৈর্যশীল হতে হয়। আল্লাহ বলেছেন, যারা ধৈর্য ধারণ করে আমি তাদেরকে পছন্দ করি। আমরা এ কথা শুনি কিন্তু পালন করি না। রাজনীতিতে উত্খাত-উচ্ছেদ, আলোচনা-সমালোচনা, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, হানাহানি-মারামারি মোটেই কাম্য নয়। আমাদের সমাজে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করে তার প্রধান কারণ হচ্ছে অন্যের ন্যায্য পাওনা বা অধিকারকে অস্বীকার করা। কাউকে তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করলে যে বৈরিতার সৃষ্টি হয় তা থেকে আমাদের মাঝে বিবাদ দেখা দেয়। এর জন্য দলমত-রাজনীতির বিভাজন ও অনৈক্যের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অন্যের মতকে শ্রদ্ধা-সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের মত গুরুত্বের সাথে শুনতেও হবে। তার মানে এই নয় রাজনীতি থাকবে না বা কেউ রাজনৈতিক দল করবেন না। এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, স্বস্তি চায়। পাশাপাশি জীবন ধারণের জন্য কর্মসংস্থান, চাকরির ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। মানুষকে যদি নিজের উপার্জন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পরিবার-পরিজনসহ বেঁচে থাকার উপায় নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সক্ষম হয় তাহলেই বলা যায় উন্নয়ন ঘটেছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিদ্যুত্, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণকে উন্নয়ন বলা হয়। আসলে এগুলো হচ্ছে উন্নয়ন অর্জনের সিঁড়ি। শুধু রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। এ জন্য ব্যক্তি উদ্যোগ আবশ্যক। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন স্থাপনে ব্যক্তি উদ্যোগ আমাদের দেশে সুদীর্ঘকাল ধরে অবদান রেখে আসছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এসব উদ্যোগকে উত্সাহ দান, সহযোগিতা প্রদান তথা স্বীকৃতি দেয়া। ব্যক্তি অবদানের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় দিক হচ্ছে এসব ক্ষেত্রে আত্মসাত্-অপচয়ের মাত্রা অতি নগণ্য। পক্ষান্তরে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হতাশা ব্যঞ্জক।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ অনেক অনেক বেশি। পাশাপাশি এর ব্যবহারের জন্য দেশে যে স্থিতিশীল পরিবেশ-পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকা আবশ্যক তাও অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক উপযোগী ও ইতিবাচক। কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। যার ফলে অতীতের মত আমাদের দেশের কৃষকরা আর ভুখা-নাঙ্গা নেই। সরকার কৃষি উপকরণসহ এ খাতে যে নগদ ভর্তুকি দিচ্ছে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সকলকে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষ সচেতন থাকলে তাদের অধিকার কেউই হরণ করতে পারে না। এখন আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত্রে আগের চেয়ে সরকারিভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী উপজেলার নাঙ্গুলী নেছারারিয়া ফাযিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন, কমিটি সদস্য শাহ আলম নসু প্রমুখ। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিঠু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম তালুকদার, আমড়াঝুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণ লাল গুহ প্রমুখ।
সন্ধ্যায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট নূরুল হকের সভাপতিত্বে এখানে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, সহ সভাপতি শাহ মোঃ কাইয়ূম বাদল, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, সনজিত কুমার সাহা, সুনীল কণ্ডু, সাইফুর রহমান বাদল, যুবলীগ সভাপতি অলক কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিকালে কাউখালী উপজেলা সদরে রিভার সাইড ইকো পার্কের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এসময় বন অধিদপ্তরের যশোর সার্কেলের বন সংরক্ষক মোঃ জায়েদ হোসেন ভুঁইয়া, কাউখালীর ইউএনও শহীদুল ইসলাম, বাগেরহাটের ডিএফও মিজানুর রহমান, পিরোজপুরের এসিএফ হারুন অর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাউখালী উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ করেন। এর আগে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে দারুচ্ছুন্নাত্ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি ব্রিজের উদ্বোধন করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার মোঃ দেলোয়ার, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জিয়ানগর উপজেলায় জেপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও পর্ত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপনের সভাপতিত্বে এখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আতিকুর রহমান উজ্জল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা সিদ্দিকুর রহমান টুলু ও ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা, জেপি উপজেলা সদস্য সচিব ও বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্য সচিব হারুন রশীদ পান্না, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন, শহীদুল ইসলাম দোদুল, মিজানুর রহমান, আনিসুর রহমান, কাওসার আহমেদ দুলাল প্রমুখ। এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ করেন।
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা কে এম ফজলুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভান্ডারিয়ায় তাঁর নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পিরোজপুরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন তালুকদার, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান তালুকদার উজ্জল, ইউএনও মোঃ মনির হোসেন হাওলাদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।