বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১০ এপ্রিল শুরু হওয়া নবম সহকারী জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় এসব অনিয়মের অভিযোগ এসেছে খোদ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকেই।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পরিদর্শকদের উদাসীনতায় বাইরে থেকে লিখে এনে তা দেখে পরীক্ষার হলে খাতা ভরানোর ঘটনা তারা দেখেছেন। নিয়ম না থাকলেও পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকছে। নকল আর অনিয়মের অবারিত সুযোগ করে দিচ্ছে এসব স্মার্টফোন। এছাড়া জায়গা বদল করে পরীক্ষা দেয়া, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রশ্ন বিলি এবং একজনের পরীক্ষা অন্যজন দিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। যৌক্তিক কারণেই তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এ প্রসঙ্গে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ আশফাকুর রহমান জানান, এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই, সব বানোয়াট। তবে পরীক্ষা চলাকালে এমন অভিযোগ এর আগেও কমিশনে এসেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
এবার রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে চলছে সহকারী জজ/জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। সরকারি কর্মকমিশন আগে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিলেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর ২০০৭ সালে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন করা হয়। এরপর থেকে এ কমিশনের অধীনেই সহকারী জজ নিয়োগ হচ্ছে। এবার এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৪৯৬ জন। আগামী ২ মে এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ।
একজন পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রবেশপত্র না দেখেই পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। কার পরীক্ষা কে দিচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। হলে পরীক্ষার খাতা বিলি করেন কলেজের কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, ইডেন কলেজের শিক্ষকরাই পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে থাকেন না। জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের কর্মকর্তারা পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
পরীক্ষা শেষ করে বেরিয়ে আসার সময় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী স্বীকার করেন, তারা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষা দিয়েছেন। তাদের একজন বলেন, প্রতিদিনই পরীক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে হলে ঢুকছে। নকলও হচ্ছে।
তবে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না দাবি করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আশফাকুর বলেন, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। তবে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগে সাধারণ ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার দিন একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা বিচারক নিয়োগের এ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদের ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। সবশেষে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ফল।
সাধারণ বাংলা, পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক আইন, সাধারণ ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান, দেওয়ানি মামলা সংক্রান্ত আইন, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহ, অপরাধ সংক্রান্ত আইন এবং সাংবিধানিক আইন ও আইনের ব্যাখ্যা বিষয় ছাড়াও দুটি ঐচ্ছিক বিষয়ে এক হাজার নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে তাদের।