উন্নয়ন অন্বেষণের প্রাক বাজেট পর্যালোচনা

‘বেসরকারি বিনিয়োগ ও রাজস্ব আদায় পিছিয়ে পড়ছে’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ চলতি অর্থবছরের প্রেক্ষিতে প্রাক বাজেট পর্যালোচনা করেছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি, এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যহত করছে। এ অবস্থায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বাজেট ঘাটতি, বৈদেশিক সহায়তা, ব্যক্তি খাতে ঋণ, রপ্তানি, মূল্যস্ফীতি এবং কু-ঋণ সম্পর্কিত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। 
 
এক্ষেত্রে আগামী বাজেটে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সকল নাগরিকের জন্য সামাজিক পরিষেবা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
 
সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রকৃত অর্জন কম হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০০৪-১৫ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রকৃত অর্জন লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কম হয়ে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার বিপরীতে বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রকৃত পরিমাণ ৬৬ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। 
 
সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের অসন্তোষজনক প্রবণতার বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭০ হাজার ১৯১ কোটি ও ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে অনুন্নয়ন ব্যয় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ যথাক্রমে ৫৯ হাজার ৭৮৯ কোটি ও ১৭ হাজার ৯ কোটি টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫ দশমিক ১ ও ২১ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের ধীর গতির কারণে বাজেট ঘাটতির পরিমাণও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। যেখানে এ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে সেখানে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ১০ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। 
 
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হওয়া দেশে ব্যক্তি খাতে ব্যবসায় কার্যক্রমে শ্লথগতিকে নির্দেশ করছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রণীত মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। যেখানে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়।