মালয়েশিয়ার সীমান্তের কাছে থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের প্রত্যন্ত একটি জঙ্গলের গভীরে ৩২টি কবরের সন্ধান পেয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। এই গণকবর থেকে ২৬টি মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার পথে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে। খবর: ব্যাংকক পোস্ট, এএফপি, বিবিসি।
গত শুক্রবার এসব কবরের সন্ধান পায় থাই কর্তৃপক্ষ। এরপর মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
২৬টির মধ্যে একজন নারীর মরদেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক টিমের প্রধান পল জেন জারুমপর্ন সুরামানি। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তিনি জানান, কবরে আর কোনো মরদেহ নেই। সবগুলো কবর ভালো করে খুঁজে দেখা হয়েছে।
বিবিসি’র এক খবরে বলা হয়, কয়েকটি মৃতদেহ উপরে তোলা হয়েছে। এমনকি একটি মৃতদেহ পড়েছিলো মাটির ওপরে। যেসব দেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন এখনো জীবন্ত বলে জানানো হয়েছে।
ব্যাংকক পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, ২৫ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই জীবিত ব্যক্তিকে ডাক্তাররা চিকিত্সা দিচ্ছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ।
পাদাং বেসার হাসপাতালের ডা. কাওয়ানউইলাই এএফপিকে বলেন, তারা অপুষ্টিতে ভুগছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পর্বতের উপর দিয়ে আনা হয়েছে। উদ্ধারের দুই দিন আগে থেকে তাকে কিছু খেতে দেয়া হয়নি। তিনি এক দোভাষীকে জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে জঙ্গলে জ্বর নিয়ে আছেন।
ডাক্তাররা জানান, দুই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি মিয়ানমারের নাগিরক সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এরা কীভাবে এখানে এসেছে বা তাদের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে সেসব এখনো খুব একটা পরিষ্কার নয়। কিন্তু দেহাবশেষ দেখে থাই পুলিশ অনুমান করছে যে, তাদের অনেকেই হয়তো ক্ষুধা আর রোগশোকে মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, দেহাবশেষ দেখে মনে হচ্ছে যে এরা রোহিঙ্গা।
থাইল্যান্ডের এই এলাকায় মানবপাচারকারীরা খুবই সক্রিয়। মালয়েশিয়া থেকে মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে এই জঙ্গলের ভেতরে মানব পাচারকারীরা ক্যাম্প বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। এসব ক্যাম্পে লোকজনকে কখনো কখনো মাসের পর মাসও আটকে রাখা হয়। এ সময় পাচারকারীরা এসব লোকজনের পেছনে ফেলে আসা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকেও অর্থ দাবি করে থাকে। প্রত্যেক বছর হাজার হাজার মানুষ থাইল্যান্ডের ভেতর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। এজন্য পাচারকারীরা এই রুট ব্যবহার করে থাকে।
এই ঘটনার পর মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে থাই সরকার। সরকারের এক মুখপাত্র শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সব ধরনের মানবপাচার নির্মূল করতে থাইল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে ট্রানজিট পয়েন্টগুলোও বন্ধ করে দেয়া হবে। মেজর জেনারেল স্যানসার্ন কায়েকামনার্দ বলেন, এই ক্যাম্প স্থাপনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর সাজা দেয়া হবে।
ন্যাশনাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পল জেন আয়েক আংসানানন্ত বলেন, কর্তৃপক্ষ আগেই ক্যাম্পের অস্তিত্বের কথা জানতে পারে। এগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গভীর জঙ্গলে এসব অবস্থিত হওয়ায় খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ছিলো। এই কবরের আশেপাশে আরো একটি ক্যাম্প থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।