বৃত্তাকার নৌপথের বাধা ১৩ সেতু

রাজধানীর যানজট ও জনজট নিরসন এবং পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ২০০০ সালে ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌ-পথ তৈরির জন্য প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু নানা কারণে ১৪ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় ১৩টি নিচু সেতু।

 
এই সেতুগুলোর কারণেই রাজধানীর চারপাশে ১১০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথ চালু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত মাত্র ১৬ কিলোমিটার নৌপথে যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হলেও বাকি ৯৪ কিলোমিটার নৌপথে নৌযান চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সমপ্রতি এসব সেতু অপসারণে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে এলজিইডিকে ১৬টি, রোডস এন্ড হাইওয়েকে ১৩টি এবং বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১টি চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেতু অপসারণ বাদে ড্রেজিং ও প্রকল্পের অন্যান্য কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে আশুলিয়া ৩০ কিলোমিটার এবং আশুলিয়া থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার নৌপথ সচল করা হয়েছে। বাকি ৪০ কিলোমিটার নৌপথ সচলের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এই পথে শুধুমাত্র ১৩ সেতু অপসারণ না করার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সেতুগুলো অপসারণ বা সংস্কার করে উঁচু করা হলেই এই নৌপথে সকল ধরনের নৌযান চলাচল সম্ভব হবে। এতে করে একদিকে যেমন রাজধানীর অতিরিক্ত যানজট ও জনজট কমবে অন্যদিকে স্বল্প সময়ে ও কমমূল্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নবদিগন্তের সূচনা হবে।
 
সেতু অপসারণে অনিশ্চয়তা:বৃত্তাকার নৌপথ বাস্তবায়নে অন্তরায় ১৩ সেতুর অপসারণ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সেতুর বিষয়ে ২০১০ সালের ৫ আগস্ট নৌমন্ত্রী ও টাস্কফোর্স সভাপতি শাজাহান খান প্রতিবেদন তৈরির জন্য ৪ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত সাড়ে ৪ বছরেও সে প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
 
এছাড়া সমপ্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নদীর নাব্য সংরক্ষণ বিষয়ক টাস্কফোর্সের এক সভা থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এক মাসের মধ্যে  সেতুগুলো অপসারণ বা উঁচুকরণ বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন প্রতিবেদন জমা  দেয়া হয়নি।
 
এ ব্যাপারে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান সরকারের সময়েই রাজধানীর বৃত্তাকার নৌপথ চালু করা হবে। ইতিমধ্যে যাত্রী পরিবহনের জন্য ৮টি নতুন ওয়াটার বাস চালু করা হয়েছে। আরো ওয়াটার বাস তৈরির পরিকল্পনা চলছে।  সেতুর বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়টি তিনি কমিটির কাছে জানতে চাইবেন বলে জানান।
 
বৃত্তাকার নৌপথের সেতু অপসারণ কমিটির আহ্বায়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলাউদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, টাস্কফোর্সের নির্দেশনার পরে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল কমিটির একটি প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এখন পর্যন্ত চার মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
 
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বৃত্তাকার নৌপথ বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, ২০০০ থেকে ২০০৪ সালে বৃত্তাকার নৌপথের প্রথম পর্বের কাজ শেষ হয়।
 

এতে ব্যয় হয়েছিল ৩৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্বের কাজ ২০০৫ সালে শুরু হয়। যা ২০১২ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি। পরে মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়। এতে মোট ব্যয় হয় ৫৪ কোটি টাকা। এ নৌপথ কার্যকর করার জন্য সদরঘাট থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ১৪টি ল্যান্ডিং স্টেশন বসানো হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।