তিন সাঁওতাল হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জের বিরোধপূর্ন জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত হয় ২০১৬ সালে। সে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে শনিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের চৌরাস্তা মোড়ে এক মানববন্ধন করেছে সাঁওতালরা।

মানববন্ধন থেকে এই মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আগামী ২৭ মার্চ গাইবান্ধা পিবিআই অফিস ঘেরাও কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এ  মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাস্কে, বগুড়া আদিবাসী গবেষণা পরিষদ সভাপতি নজরুল হোসেন, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি এম.এ.মতিন মোল্লা, ক্ষেতমজুর সমিতি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুন্নবী মিলন, কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু, সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ, সাধারণ সম্পাদক জাফুরুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা রাফায়েল হাজদা, সুফল হেমব্রম, প্রিসিলা মুরমু প্রমূখ। 

এর আগে আদিবাসীর ফেস্টুন ও লাল পতাকাসহ উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে একটি র‌্যালি বের করে। পরে র‌্যালিটি ৫ কিলোমিটার পায়ে হেটে ওই এলাকায় এসে মানববন্ধনে অংশ নেন। 

বক্তারা বলেন, বহুল আলোচিত তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের আজও গ্রেফতার করা হয়নি। 

তারা আরও বলেন, তিন আদিবাসী হত্যা, বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, ক্ষতিপূরণ ও বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরতসহ সাত দফা দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

শেষে এই মামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন গ্রেফতার করা না হলে আগামী ২৭ মার্চ গাইবান্ধা পিবিআই অফিস ঘেরাও করা হবে।

গাইবান্ধা পিবিআইয়ের সিনিয়র এএসপি আবদুল হাই জানান, এই মামলায় এ পর্যন্ত ২৫জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ অপহরণের ১০ দিনের মাথায় উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

পিছনের কথা : ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকলের গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারিদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়। সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে মামলা করেন। পরে ২৬ নভেম্বর থোমাস হেমরম বাদী হয়ে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে আরেকটি মামলা করেন।

ইত্তেফাক/নূহু