প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে তার ফোন আলাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেছেন, কোন প্রাণহানি ছাড়াই সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে যে অনুষ্ঠিত হয়েছে সে বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানিয়ে দিয়েছি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে ১০ জন মানুষের মৃত্যু এবং বিএনপি সরকারের সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অসংখ্য প্রাণহানির বিবরণ ফোন আলাপে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সিটি নির্বাচনে কোন অঘটন ঘটেনি।
গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য বলেন, বিএনপির এ নির্বাচন বয়কট উদ্দেশ্যমূলক। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা নির্বাচন বর্জন করে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বর্জন সেটাই প্রমাণ করে। তাছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিতে পারেন না। কারণ এটি ছিল নির্দলীয় নির্বাচন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় কোম্পানি হচ্ছে
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের বিধান রেখে ‘পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র আইন-২০১৫’র খসড়া ভোটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার জন্য ‘পারমানবিক বিদ্যুত্ কোম্পানি অব বাংলাদেশ’ নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র একটি উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন প্রকল্প। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন এবং নিরাপত্তা সংবলিত বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনে কোম্পানি গঠন করতে হয়। পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র আইনের খসড়ায়ও এ ধরনের স্বতন্ত্র কোম্পানি করার কথা বলা হয়েছে। রাশিয়ান সরকারও কোম্পানি গঠনের জন্য উত্সাহিত করেছে। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের হাতে। আর কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে ‘পারমানবিক বিদ্যুত্ কোম্পানি অব বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র আইনে কোম্পানি গঠনের রূপরেখা দেওয়া থাকবে, বিশেষ বিধানগুলোও সেখানে থাকবে। যা থাকবে না তা কোম্পানি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের খসড়াটি আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার (আইএইএ) নীতিমালা অনুসরণ ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, একটি সহায়তা চুক্তি ও অপরটি ঋণ চুক্তি। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে ১ হাজার ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে প্রকল্প সহায়তা আসবে বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করবে রাশিয়া। ২০১৭ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। এক হাজার মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি চালু হবে ২০২১ সালে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেমোরেন্ডাম অব এ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন তৈরি করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোম্পানির জন্য একটি বোর্ড থাকবে। বোর্ডের সভাপতি হবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব। পরিচালক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত বা যুগ্মসচিব, লেজিসলেটিভ বিভাগের যুগ্ম সচিব, অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব, এফবিসিসিআই’র একজন প্রতিনিধি, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। বিদ্যুত্ কেন্দ্র যখন চালু হবে তখন প্রকল্প বিলুপ্ত হয়ে তা কোম্পানির কাছে চলে যাবে। প্রকল্পের যিনি শেষ পরিচালক থাকবেন তিনি হবেন নতুন কোম্পানির প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাহলে ধারাবাহিকতা থাকবে, কাজের গ্যাপ (শূন্যতা) সৃষ্টি হবে না। পাবনার ঈশ্বরদীর প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের অনুমোদিত মূলধন হবে এক কোটি টাকা। তা ১০০ টাকা মূল্যের এক হাজার শেয়ারে বিভক্ত থাকবে। প্রকল্পটি কোন পর্যায়ে রয়েছে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে।
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় এ চুক্তি হওয়ার কথা। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কবে আসবেন, তা ঠিক হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চুক্তির পর বাংলাদেশ থেকে কার্গো ভারতে যেতে পারবে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে আসতে পারবে। দুই দেশের পণ্যবাহী জাহাজগুলোর গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন সময় লাগে ১৫ দিন। আর এই চুক্তি হলে তখন সময় লাগবে ৫/৬ দিন। এতে পরিবহন ব্যয়ও কম হবে। এছাড়া গত ১১-১৩ মার্চ ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের গ্রানাডায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল এ্যাকশন নেটওয়ার্কের জন্য কৌশলগত বৈঠকে মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।