শহরতলীর দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে গত প্রায় ৩ মাসে পুড়ে গেছে হিমছড়ী বনের এক হাজার একরের বেশি এলাকা। এসময় বিভিন্ন প্রজাতির ও বয়সের অন্তত ২ কোটি গাছ পুড়ে যায়। এই আগুনে বনবিভাগের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দরিয়ানগরের শত শত বৃক্ষও পুড়ে গেছে। পর্যটন কেন্দ্রটি হয়ে পড়েছে শ্রীহীন। বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছনখোলা থেকে বার বার অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ায় সম্প্রতি কক্সবাজার বনবিভাগ বনাঞ্চলে ছন চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও পার্শ্ববর্তী বড়ছড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ জানান, শহরতলীর কলাতলী বিটের দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ী পর্যন্ত বনাঞ্চলে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বনবিভাগের দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্রও তিনবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে। আগুনে এ পর্যটন কেন্দ্রের নব্বইভাগ বন পুড়ে গেছে। এই পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন আসমত আলীর ছনখোলা থেকে বার বার আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ী পর্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তত ৪০টি ছনখোলা (ঘরের ছাউনি হিসাবে ব্যবহূত খড়ের বাগান) রয়েছে। ছন কেটে ফেলার পর বেশি উত্পাদনের আশায় এই ছনের বাগানে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই আগুনে শুধু ছনখোলা পুড়ে না। পুড়ে যায় আশপাশের বনাঞ্চলের সমস্ত গাছ। ছনখোলার মালিক ছাড়াও এক শ্রেণির দুষ্কৃতকারী বাগান থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য বনাঞ্চলের চারা গাছ পুড়িয়ে দিচ্ছে।
গত কয়েকবছর ধরে বনবিভাগ প্রভাবশালীরা ছনখোলায় চারাগাছ রোপণ করেছে। এসব চারাগাছ বড়ও হয়েছে। ফলে প্রভাবশালীদের ছনখোলা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা বনাঞ্চলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। এভাবে গত ৩ মাসে অন্তত ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এ পর্যন্ত কোন ঘটনাতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছনখোলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার কথা স্বীকার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল আওয়াল সরকার বলেন, এ ঘটনার পর বনাঞ্চলে ছন চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর ঘটনায় মামলা না হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় মামলা করা যায়নি। এসব ঘটনায় কোন বনকর্মী জড়িত প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।