নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে বিশ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাহার করায় জামায়াত নাখোশ হয়ে একাই আন্দোলনে নামতে চাইছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন প্রস্তুতি দেখা না গেলেও জামায়াত শিবির এ আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, এবারের আন্দোলনে জামায়াত-শিবির জেএমবিকে কাছে টানতে চাইছে। আর এলক্ষ্যে তারা অনেকটা সফল হয়েছে বলে দলের একাধিক সূত্র দাবি করেছে। রাজধানীতে ২০ দলের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর সে আন্দোলন পাশের শহর নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে জামায়াত নতুন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবার তারা চোরাগোপ্তা হামলাসহ দুই জন এমপি, কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের টার্গেট করে মাঠে নেমেছে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়াকে তাদের পক্ষে রাখার জন্য বিরাট অংকের বাজেট তৈরি করে বহিরাগতদের নারায়ণগঞ্জে আনতে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি গ্রহণের তথ্য জানিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে আমরা থাকব না বলে জামায়াতকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি। এখন তারা একাই নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের একাধিক বাড়িতে ও পত্রিকা অফিসে গত কয়েকদিন শীর্ষ কয়েকজন জামায়াত নেতার সাথে জেএমবির সামরিক শাখার বর্তমান প্রধান সালাউদ্দিনসহ কয়েকজনের বৈঠক হয়। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় নারায়ণগঞ্জে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেএমবি আন্দোলনের নামে সহিংস ঘটনা ঘটাবে। এজন্য জামায়াত স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকার ভাড়াটে সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে এমপি শামীম ওসমানের গতিবিধি লক্ষ্য রাখাই এসব সাংবাদিকদের দায়িত্ব বলে জানা গেছে। এছাড়া জামায়াত-শিবির ২/৩ জন সাংবাদিকসহ বিশজনের একটি তালিকা জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে রবিবার পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।