প্রেম বসন্ত

বসন্ত কাল। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্পেশাল ক্লাসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো রিংকু। যদিও বসন্ত কাল, তবুও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে বুদ্ধি করে ছাতা নিয়ে বের হলো সে।

কোনোভাবে শার্ট-প্যান্ট পরেই গাড়ি ধরার জন্য দৌড়ে বেরিয়ে গেল। গলি পার হয়ে রাস্তায় দাঁড়াতেই একটি বাস পেয়ে যায়। উঠেই দেখে সামনের সিট খালি। বসে পড়ল। পাশের সিটে এক নীল সুন্দরী, মানে নীল ড্রেসে এক সুন্দরী বসে আছে। পাশাপাশি বসে আড়চোখে কয়েকবার তাকিয়েও দেখল রিংকু। না, আসলেই অনেক সুন্দর! কেমন যেন একটা টাটকা ভালো লাগার আবেগ কাজ করতে থাকে তার মনে। অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর একসময় নীরবতা ভাঙে তাদের। অবশ্য তা বৃষ্টির আশীর্বাদে। ততক্ষণে ঝুম বৃষ্টি নামে। মেয়েটিকে জানালা লাগিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেই কথা শুরু করল রিংকু।

—কোথায় যাবেন?

—ফার্মগেট

—ও তাই নাকি, আমিও নামব ওইখানে। (যদিও তার গন্তব্য তেজগাঁও)।

—ও আচ্ছা, যাক ভালো।

—তা ছাতা এনেছেন?

—না, জানতাম না যে বৃষ্টি হবে।

—সমস্যা নাই, আমার কাছে আছে। নেট ঘেঁটে আবহাওয়াবার্তা দেখে বুদ্ধি করে ছাতা নিয়ে ব্যাগে রেখেছি।

—তাই! আপনি তো খুব বুদ্ধিমান।

এইভাবে কথা চলল। যতই নানারকম কথা বাড়তে থাকে, রিংকুর প্রেম ততই বাড়তে থাকে।

একসময় বাস ফার্মগেট এসে থামল।

রিংকু ছাতা খুলে নেমে গেলেও বাসের গেইটে দাঁড়িয়ে আছে সেই মেয়েটি। রিংকু আবার গেইটে যায়, এরপর মেয়েটিকে ছাতা দিল।

—আপনি ছাতা নিন, না হয় আবার ভিজে যাবেন।

—ধন্যবাদ! তা আপনি তো ভিজবেন তাহলে।

—সমস্যা নাই।

—আচ্ছা, আপনিও আসুন ছাতার নিচে।

রিংকুর মনে যেন প্রেম আরও বেশি দোলা দিতে লাগল। মেয়েটির সঙ্গে একই ছাতার নিচে সে। যদিও ছাতার নিচে কেবল তার মাথা ঠাঁই পেয়েছে, পুরো শরীর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। এরপর রাস্তার পাশে এক যাত্রী ছাউনির নিচে দাঁড়াল তারা।

মেয়েটি তখন রিংকু কে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি যাবেন কোথায়?’

—এই তো এইদিকেই আছি, বন্ধুর সাথে এক জায়গায় যাব।

(যদিও তার স্পেশাল ক্লাসের আর ৪ মিনিট বাকি, এরপরও নারীর রূপে পাগল হয়ে স্পেশাল ক্লাস আজ গোল্লায়!)

কিছুক্ষণ পর রিংকু মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি যাবেন কোথায়? চলেন দিয়ে আসি।

মেয়েটি উত্তর দেওয়ার আগেই ফোন বেজে উঠল। একটু আড়ালে গিয়ে কার সাথে ৩০-৪০ সেকেন্ডের মতো কথা বলল। এরপর আবার রিংকুর কাছে এলো।

—একটা হেল্প করতে পারবেন?

—জি, অবশ্যই। বলেন...

—আমার বিএফ বাস থেকে এখনই নামবে। ওর কাছে ছাতা নাই। একটু গিয়ে যদি ছাতা দিয়ে ওকে নিয়ে আসতেন...।

রিংকুর মাথা তখন শাপলা চত্বরের চারপাশের গাড়িগুলোর মতোই চক্কর দিচ্ছিল। এতক্ষণ কার পিছনে তেল মারল সে, শুধু তেল না, স্পেশাল ক্লাসও গেল গোল্লায়। এর ওপর নিজে ভিজে জ্বরকে আমন্ত্রণ জানাল। তাই এখন বিএফ শব্দ শুনে সে মেনে নিতে পারছিল না। তাই আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘কে?’

—আমার বয়ফ্রেন্ড। একটু হেল্প করেন প্লিজ। ওর আবার ঠাণ্ডার অ্যালার্জি, জ্বর ওঠে।

এ অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না তার। নিজেকে বিসর্জন দিয়ে মেয়েটির জন্য শেষ সাহায্যটুকু করে দিল সে। নিজে ভিজে ভিজে তার প্রেমিককে রক্ষা করে তার কাছে এনে দিল।

এরপর সে ছাতা নিয়ে চলে গেল স্পেশাল ক্লাসের আশায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে, যদিও ততক্ষণে ক্লাসের অর্ধেক শেষ।