সাভারে ব্যাংক ডাকাতিতে জড়িত ‘আনসারুল্লাহ’

সাভারের আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে বহুল আলোচিত ডাকাতির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে তারা ব্যাংকে ডাকাতি করতে যায়। ঘটনার সময় ব্যাংক ম্যানেজারকে হত্যাকারী জসিমউদ্দিন ওরফে আসাদকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।  সোমবার দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 
এ নিয়ে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭ জনে। তারা সবাই আনসারুল্লাহর সদস্য বলে স্বীকার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক এ দাবি করেন। গ্রেফতারকৃত জসিমউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনের আগে গ্রেফতারকৃত জসিমউদ্দিনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জসিম ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
 
অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, গ্রেফতারকৃত জসিমউদ্দিনই ম্যানেজারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাকে ধাওয়া করলে সে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তার অপর সহযোগীদের ছোঁড়া বোমার স্প্লিন্টার ও গুলি তার পায়ে বিদ্ধ হয়। রক্তমাখা অবস্থায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে সে আশুলিয়ার শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে দুইদিন অবস্থান করে। পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ফুফুর বাড়িতে আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ।
 
জসিমউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এডিশনাল ডিআইজি বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি তারা জঙ্গি সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের জন্য ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও তারা ছোটখাটো ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল।
 
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারের পর সবার বাসায় তল্লাশি করে তাদের ধর্মীয় নেতা ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানির বিভিন্ন বই পাওয়া গেছে। আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে রাহমানি তাদের ধর্মীয় নেতা বলে জানিয়েছে। তিনি আরো জানান, ডাকাতির নেতৃত্ব দেন আব্দুল্লাহ আল বাকী ওরফে মাহফুজ ওরফে হাফিজ নামে একজন। মাহফুজের বাড়ি শেরপুর। তিনি জামায়াতের সদস্য। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলো সুমন নামের একজন।
 
ডাকাতিতে ব্যাংকের কেউ জড়িত ছিল কীনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংকের দারোয়ান সোহেলকে আটক করা হয়েছে। কারণ সে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাকে নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
 
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল ১০ জন। ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন গণপিটুনিতে মারা গেছে। পলাতক দু’জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 

২১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া বাজার শাখায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদের গুলি ও বোমা হামলায়  নিহত হয় ব্যাংক ম্যানেজারসহ ৮ জন। পালাবার সময় ধরা পড়ে জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয় এক ডাকাত।