সাহিত্যিক বউ

প্রথম বউটা (!) পেশায় ও নেশায় ছিল লেখিকা!                   পেশা না ছাই! লিখে এক কলম আর পড়ে দিনরাত! কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে বই এনে দিতে হয়! শুধু কি তাই, সেই বইগুলো পড়ার সময় আমাকেই পাশে বসে থাকতে হবে (এটা কেমন জুলুম)! স্যার-ম্যাডামেরা একাডেমিক বইগুলো পড়ানোর সময় কখনো মনোযোগী ছিলাম কি না সেটা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হব! আর বউয়ের কাছে মনোযোগ সরানো দায়! বসে বসে সেই গল্পগুলো অনিচ্ছাসত্ত্বে গিলতে হয়!

কখনো কখনো রাত ৩টায় চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে শুনব আমাকে এখন ছাদে যেতে হবে। রাজ্যের বিরক্তি চোখে মুখে এলেও সেটা আচরণে প্রকাশ হওয়ার আগেই নিজেকে ছাদে আবিষ্কার করতে হয়! কম্পিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করি, ‘আমরা এত রাতে এখানে কেন?’ আমার কথায় কান না দিয়ে বইয়ে ডুব দিয়ে মিনমিনিয়ে বলে, ‘ফুরফুরে হালকা বাতাসে নাকি বই পড়ার মজাই আলাদা!’

অগত্যা....।

অথবা হাড় কাঁপানো শীতে সবাই যখন কাঁথামুড়ি দিয়ে গভীর স্বপ্নে আচ্ছন্ন, তখন আমাকে জেগে থাকতে হবে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেওয়ার জন্য! কারণ ভদ্র মহিলার হাতে হাত মোজা পরা থাকে!

শুধু কি তাই, মাঝেমধ্যে অখাদ্য কুখাদ্য গলাধঃকরণ করতে হয়। রান্নার ফাঁকে ফাঁকে কোনো একটা গল্প পড়তে গিয়ে লবণ দেওয়ার কথা ভুলে গেছে অথবা তিনবার লবণ দিয়ে ফেলেছে!

বাজার লিস্ট হাতে ধরিয়ে দেয় যখন তখন আবিষ্কার করি উপরের দিকে কয়েকটা বইয়ের নাম লেখা থাকে। বাজার লিস্টের অন্যান্য জিনিস লিখতে ভুলুক আর নাই ভুলুক বইয়ের নাম লিখতে ভুলে না।

এমনো দিন যায় বাজারে দুই/তিন বা ততোধিক বার যেতে হয় কারণ অমুক-তমুক জিনিস লিখতে ভুলে গেছিল!

ভুরুংগামারী, কুড়িগ্রাম