বিদেশে অবৈধ উপায়ে ত্অর্থ পাচার ঠেকাতে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের বাস্তবায়নের ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল মঙ্গলবার অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের ফোরাম ইআরএফ-এর সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, অর্থপাচার আইনের আওতায় এনবিআরকে ক্ষমতা দেয়ার প্রক্রিয়া জোরদার হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফাঁকি দেয়া কর উদ্ধারের প্রক্রিয়াও জোরদার হচ্ছে।
দেশে অর্থপাচার রোধে আইন থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এনবিআর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থা কাজ করলেও প্রকৃত অর্থে অর্থ পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশে দেদারসে এসব অর্থ চলে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ইআরএফ সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাদল অর্থ পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দেন। তিনি বলেন, দেশে যথার্থ বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় অনেকে বাইরে টাকা নিয়ে যাচ্ছে বা বিনিয়োগ করছে।
ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানসহ সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ আসছে বাজেটের উপর বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। করদাতা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির স্বার্থে করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান ভীতি দূর করার উদ্যোগ নেয়া, আয়কর রিটার্ন দাখিল সহজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যক্তি খাতের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা, কোম্পানির কর্পোরেট করের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্তর কমানো, প্রতিবেশী দেশ ভারতের ন্যায় এ করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়া হয়। বর্তমানে ৫৮টি খাত উেস কর কর্তনের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি খাত থেকে উেস কর আদায় হয় না। আর ৪০টি খাত থেকে খুবই সামান্য কর আদায় হয় জানিয়ে ইআরএফ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসার এটিকে যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মের পর্যালোচনা করা, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে শুল্ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং এনবিআরের মনিটরিং সেলকে জোরদার করার প্রস্তাব দেন।
এছাড়া বাজেট পাসের আগেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকানো, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট প্রত্যাহার, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়।
এ সময় এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন, এনায়েত হোসেন ও সুলতান মোহাম্মদ ইকবালসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।