মশার আক্রোশ থেকে বাঁচার পাঁচ ঘরোয়া ফর্মুলা

প্রতি বছরের মতো এবারো রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে মশার বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশীয় সম্পদ মশা ভিনগ্রহে রপ্তানির অনুমতি নিই। তাই বিপুল পরিমাণ উত্পাদিত মশা এখন কানের কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে। মশাদের যথাযথ সমাদর না করায় মশা সমাজ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। মশাদের বিদ্রোহে দুই সিটি কর্পোরেশনের খানিকটা ঘুম ভাঙলেও বিসিএস পড়ুয়া ও ঝোপঝাড় পাহাড়ার দায়িত্বে থাকা প্রেমিক-প্রেমিকাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে রীতিমতো টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। কার সার্বভৌমত্ব গেল আর কার যাবে—এসব নিয়ে আলাপ পরে হবে। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। তাই মশার আক্রোশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঝটপট হাত-পা, নাক-জিহ্বা বুলিয়ে নিন নিচের ব্যর্থ পাঁচ ফর্মুলায়—

আশ্বাস

দিন :মশাদের আশ্বস্ত করুন আপনি এ বছর চিকনগুণী জনে পরিণত না হলে পরের বছর মোটাগুণী জনে পরিণত হয়ে মশাদের কাছে নিজেকে সঁপে দেবেন। তখন বর্তমান মশারা তাদের নাতিপুতিদের নিয়ে আয়েশ করে স্বাদ মিটাতে পারবে। রাজনীতিবিদদের আশ্বাসে ফায়দা হাসিল হলে আপনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন কেন?

প্রেম করুন :হিজরারা এক নবজাতক পোলাপান জিম্মি করে দুইবার টাকা নেয় না। মশা সরদার মশক মিয়া গতকাল এই নীতির আলোকে নতুন ‘খাওন’ আইনে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। আপনি এবার একটা প্রেম করুন। প্রেমিকাকে নিয়ে জঙ্গল পাহারা দিন। মশাকে নিজের দেহ সঁপে দিন। এরপর ওইদিন আপনি বাসায় আসলে নিরাপদ থাকবেন। গ্যারান্টি দিলাম। তবে অবশ্যই আপনাকে প্লাটিনাম ক্যাটাগরির রক্ত সরবরাহকারী হতে হবে। এতে আপনি ছিঁড়া কার্ড পাবেন। কার্ডটা গলায় সার্বক্ষণিক ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কারণ মশাদের স্মরণ শক্তি অতটা ভালো না। মাঝে মাঝে তো কার্ডের কথাও মশারা ভুলে যায় ।

আর নয় শত্রুতা :শত্রু ভেবে দূরে দূরে থাকলেই ক্ষতি। মশাদের মতো বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশী মঙ্গলগ্রহেও নেই। তো দেরি কেন? বড়মাপের একটা মশাদের দল বাছাই করে পাতিয়ে ফেলুন বন্ধুত্ব। বন্ধুদের সঙ্গে দিনে ২৫ ঘণ্টা সময় কাটান। প্রতিপক্ষ মশাদের দল আপনার ধারে কাছে আসার সাহস পাবে না।

ভয় দেখান :মশা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হয় তবে তাকে অ্যাসাইনমেন্টের ভয় দেখান। এতেও কাজ না হলে সাংবাদিকদের সহায়তায় মশার সিআরকে খুঁজে বের করে একজন অধ্যাপকের কাছে নিয়ে যান। কীভাবে কোন অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে তা অধ্যাপকের মুখস্থ আছে। এক ফাইলেই সমাধান নিশ্চিত। অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত মশার সরদার ও তার চ্যালাদের আপাতত আতশি কাচ দিয়েও খুঁজে পাবেন না।

কনসার্ট শুনুন : মশাদের কনসার্ট হাসিমুখে নিয়মিত শুনুন। হাততালি দিন, বাহবা দিন। মনোবিজ্ঞান বলে, মানুষের ভ্যাঁ ভ্যাঁ যখন অন্য অমানুষ মনোযোগ দিয়ে শুনে তখন খুশিতে সেই মানুষও অমানুষ হয়ে যায়। মানে শ্রোতাকে ভালোবাসতে শুরু করে। মশাদের শরীরে যেহেতু আপনার আমারই রক্ত সেহেতু মশাদের মগজেও একই গোবর থাকাটাই স্বাভাবিক। মশাদের কনসার্ট নিয়মিত শুনলে মশারাও আপনাকে ভালোবাসতে শুরু করবে। যে মশার কনসার্ট শুনবেন সে মশা মরার পর আপনাকে আর কামড়াবে না—স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এই নিশ্চয়তা দিলাম। খুব সহসাই আপনার এ গুণের খবর দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়বে। দূরদূরান্ত থেকে আপনাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসবে। তাদেরকেও নিরাশ করা যাবে না। মনে রাখবেন, বাঁচতে হলে নিয়মিত সব দলের কনসার্ট শুনতে হবে।

অবশ্যই এই পাঁচ ফর্মুলা বাসায়, বনে-জঙ্গলে, মাঠে-ঘাটে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চেষ্টা করে দেখবেন। কাজ না হলে আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করবেন। হাদিয়ায় সন্তুষ্ট হলে ছয় নম্বর ফর্মুলা জানিয়ে দেওয়া হবে। বুঝেন-ই তো সব কথা পাবলিকলি বলা যায় না।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়