বগুড়ার মহাস্থানগড়ের নাম ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে তালিকাভুক্ত হওয়া ও স্বীকৃতি পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
বুধবার বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ঐতিহ্যে (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) মহাস্থানগড়ের নাম স্থান পেতে মনোনয়নপত্র দাখিল বিষয়ক চার দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। তাই এ স্থানটিকে বিশ্ব দরবারে আরো বেশি করে তুলে ধরতে হবে। যাতে ঐতিহাসিক এ স্থানটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্থান পায়। এ জন্য সরকার সবরকম পদক্ষপ গ্রহণ করেছে। এর জন্য নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আরো বলেন, সংস্কৃতি যখন জীবনের সঙ্গে মিলবে তখন তা নদীর মতো প্রবাহিত হবে। বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ, আমরা এদেশের মানুষের সুন্দর জীবন যাপন দেখতে চাই। এ কারণে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী বছর সার্ক সাংস্কৃতিক বছরে এই অঞ্চলের একটি ‘আর্ট-কালচার সিটি’ ঘোষণা করা হবে। এই সিটি হিসেবে বগুড়ার মহাস্থান গড়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।IMG0
বিশ্ব ঐতিহ্যে তালিকাভুক্তির জন্য মহাস্থানগড়ের তথ্য পাঠানোর লক্ষ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, কোরিয়ান ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো সম্মিলিতভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনিস্কো’র (বিএনসিইউ) সচিব মনজুর হোসাইন ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস।
কর্মশালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে চীন ও কোরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞগণ অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী কর্মশালায় অংশগ্রহকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
বিকেলে মন্ত্রী বগুড়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বগুড়ার সংস্কৃতি কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ।