অর্থ সংকটে পড়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় এই অর্থ সংকটে পড়ে বিভাগটি। এতে করে বিপাকে পড়েছে রোগীরা। যেসব রোগী টাকা জোগাড় করতে পারছে না তাদের বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট হচ্ছে না। এতে গরীব রোগীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। ফলে যে লক্ষ্য নিয়ে বিভাগটি চালু হয়েছিল সেটা ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকা মেডিক্যালের বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এম. এ. খান বলেন, বছরে ৫ কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ পেলে আর্থিক সংকট আর থাকবে না। এই চিকিত্সার জন্য রোগীদের দিতে হয় ১ লাখ টাকা। সরকারি বরাদ্দ এবং রোগীদের কিছু অর্থ মিলিয়ে ভালোভাবে চিকিত্সা হয়ে যাবে।
জানা যায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বরাদ্দ পাচ্ছে না বিভাগটি। বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির করছেন বিভাগীয় প্রধান। আগামী অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে বছরে ৪০-৫০টি বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা।
জানা গেছে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২ তে ১০ মার্চ, ২০১৪ সালে এই বিভাগ চালু করা হয়। এখানে এখন পর্যন্ত ১৪টি বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে। চিকিত্সা শেষে সবাই সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। আরো ৬ জন অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। এদের মধ্যে আগামী শনিবার একজন রোগীর বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে।
জানা যায়, থ্যালাসিমিয়া, লিকুমিয়া, এ প্লাস্টিক এনিমিয়া, মাইলোমা, লিমপোমাসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে দেশের কয়েক লাখ মানুষ। এসব রোগে আক্রান্ত রোগীদের বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিদেশে চিকিত্সা করতে খরচ হয় ২০-২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে দেশে খরচ হয় ৫-৬ লাখ টাকা।
এটার জন্য দুই ধরনের চিকিত্সা সেবা রয়েছে। একটি অটোলোগাস অন্যটি এলোজেনিক। বাংলাদেশে অটোলোগাস পদ্ধতি প্রচলিত। এই পদ্ধতিতে রোগীর নিজের শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে সংযোজন করা হয়। আর এলোজেনিক পদ্ধতিতে অন্যের শরীর থেকে স্টেম সেল নিয়ে সংযোজন করা হয়। বাংলাদেশে এই পদ্ধতি চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে চালু হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। আশা করছি আগামী অর্থবছরে এই বিভাগকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বিভাগ চালু হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বোন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের আর্থিক সংকট দ্রুত নিরসন করা হবে।