সত্যজিত্ বিশ্বাস
স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক
ক্রেতা :কী মিয়া, বাকি সবকিছুর লগে সবজির দাম এত অস্বাভাবিক বাড়ল কেন?
বিক্রেতা :কী যে কন না! বাকি সব জিনিসের দাম বাড়তি হওয়া অস্বাভাবিক হইলেও সবজির দাম বাড়াটাই তো একমাত্র স্বাভাবিক।
ক্রেতা :কেমনে?
বিক্রেতা :এমনেই শীতের সবজি বিদায়ের সময়ের কারণে সরবরাহ কম তার উপর গ্রীষ্মের সবজি এখনো ভালোভাবে বাজারেই আসে নাই। তাইলে আপনিই কন, সবজির দাম বাড়ব না তয় কার দাম বাড়ব?
কী করে চালায়?
প্রথম বন্ধু :আহারে এতদিন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু শুধু ড্রাইভারদের দোষ দিয়েছি, গালাগালি করেছি। কাজটা ঠিক হয়নি রে।
দ্বিতীয় বন্ধু :কী বলিস এসব?
প্রথম বন্ধু :ঠিকই বলছি রে। ওরা তো আর দেখে করেনি।
দ্বিতীয় বন্ধু :দেখে করেনি মানে?
প্রথম বন্ধু :পেপারে পড়লাম, শতকরা ৭০ ভাগ গাড়ি চালক চোখের সমস্যায় ভুগছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :সত্যি?
প্রথম বন্ধু :তাহলেই বোঝ, কত কষ্ট করেই না তারা গাড়ি চালায়।
দ্বিতীয় বন্ধু :আমি অবশ্য ভাবছি অন্য কথা।
প্রথম বন্ধু :কী কথা?
দ্বিতীয় বন্ধু :এই চোখ নিয়ে কী করে চালায়?
বর্ষাকালের জন্য একটু ওয়েট করলেই তো হয়
প্রথম নেশাখোর :চল, বলধা গার্ডেনে গাছের তলায় বসে নির্বিঘ্নে নেশা করি গিয়ে।
দ্বিতীয় নেশাখোর :নারে ওখানে যাব না। ওখানে গাছগুলোর দিকে তাকানো যায় না।
প্রথম নেশাখোর :কেন?
দ্বিতীয় নেশাখোর :গতকাল গিয়ে দেখি, ওখানের সব গাছ পানি সংকটে মরমর অবস্থায়।
প্রথম নেশাখোর :গাছগুলোর কী কোনো বুদ্ধিশুদ্ধি নাই?
দ্বিতীয় নেশাখোর :কেন?
প্রথম নেশাখোর :বর্ষাকালের জন্য একটু ওয়েট করলেই তো হয়।
যাগো দাম বাড়ছে তাগো কন
ক্রেতা :কী ব্যাপার, মাছ, মুরগির দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে ঘটনা কী?
বিক্রেতা :এইডা আমারে কন ক্যান?
ক্রেতা :তাহলে বলব কাকে?
বিক্রেতা :যাগো দাম বাড়ছে তাগো কন।
কেডায় কয় কারণ নাই?
ক্রেতা :ঘটনা কী? কোনো কারণ ছাড়াই মাছ, মাংস, সয়াবিন তেল—সব জিনিসের দাম বাড়তি কেন?
বিক্রেতা :কেডায় কইল কারণ নাই?
ক্রেতা :কী কারণ শুনি?
বিক্রেতা :দুই মাস পড়েই সংযমের মাস না?
যার দাম আছে, সেই তো দাম বাড়ায়
ক্রেতা :বুঝলাম না, কোনো কারণ ছাড়াই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এমন বেড়ে গেল কেন?
বিক্রেতা :এই সহজ জিনিসটাও বুঝলেন না?
ক্রেতা :না তো?
বিক্রেতা :যার দাম আছে, দাম দেখাইব না?
মোটিভেশনাল স্পিচ
রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট কমানোর লক্ষ্যে বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। একজন মোটিভেশনাল স্পিকার নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে চারপাশে ভালো করে দেখে ড্রাইভিং করার জন্য।
মোটিভেশনাল স্পিকার :আপনারা যখন ড্রাইভিং সিটে বসে চালাবেন; তখন সামনে, পিছনে, ডানে, বামে, লুকিং গ্লাসে সব দিকে তাকিয়ে চালাবেন। তাহলে আর অ্যাক্সিডেন্ট হবে না।
এক ড্রাইভার :কী যে কন ভাই, সবদিকে তাকাইতে থাকলে গাড়ি চালামু কোন সময়?
মোটিভেশনাল স্পিকার :সবদিকে খেয়াল করতে করতেই চালাবেন।
ড্রাইভার :তাইলে কী আর রাস্তায় একখান গাড়িও থাকব?
উদ্দেশ্য আলোচনা সভা না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
প্রথম বন্ধু :নারী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যাবি?
দ্বিতীয় বন্ধু :কখন শুরু হবে?
প্রথম বন্ধু :সন্ধ্যা ৬টায়।
দ্বিতীয় বন্ধু :তাহলে যাব। রাত ৯টার দিকে ফ্রি থাকব।
প্রথম বন্ধু :কীরে কানে শুনিস না? বললাম, অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
দ্বিতীয় বন্ধু :শুনেই তো বললাম।
প্রথম বন্ধু :তাহলে রাত ৯টায় গিয়ে কী করবি?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, ততক্ষণেও কী আলোচনা সভা শেষ হবে না?
আকাশ কুসুম
শিক্ষক :‘আকাশ কুসুম’ দিয়ে একটা বাক্য রচনা করো তো?
ছাত্র :বইমেলায় যারা গিয়েছিল প্রত্যেকে ব্যাগ বোঝাই করে পছন্দের বই কিনে বাড়ি ফিরেছে।
শিক্ষক :তো? এর মধ্যে ‘আকাশ কুসুম’ কোথায়!
ছাত্র :কী যে বলেন স্যার, পুরো ব্যাপারটাই তো আকাশ কুসুম। আর আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না?
আফসোস
ইয়াবাখোর বন্ধু :গতকাল বিরাট একটা ভুল করে ফেলেছি রে, দোস্ত।
সুমন :কী ভুল রে?
ইয়াবাখোর বন্ধু :কাল নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হাতঘড়িটা বেচে দিয়েছি।
সুমন :এখন বুঝেছিস তো, নেশা কত খারাপ?
ইয়াবাখোর বন্ধু :হুম।
সুমন :মনে খুব কষ্ট হচ্ছে?
ইয়াবাখোর বন্ধু :হুম।
সুমন :খুব আফসোস হচ্ছে?
ইয়াবাখোর বন্ধু :হুম।
সুমন :সেই তখন থেকে অন্যমনস্ক হয়ে কী এত ভাবছিস আর হুম-হুম করছিস?
ইয়াবাখোর বন্ধু :ভাবছি, আজ কার হাতঘড়ি বেচে নেশার টাকা জোগাড় করি?
গাধার মতো
স্বামী :ওগো, শুনছ? সর্বনাশ হয়ে গেছে।
স্ত্রী :কী নাশ হয়েছে?
স্বামী :বেতন নিয়ে অফিস থেকে বাসায় আসার পথে দুটো ছেলে পিস্তল দেখিয়ে বলল, হয় মানিব্যাগ দে নাহলে ইয়াবা কিনে দে।
স্ত্রী :আর তুমিও বোকার মতো মানিব্যাগ দিয়ে চলে এলে, তাই না?
স্বামী :আমি কী জানি, কোথায় ইয়াবা পাওয়া যায়?
স্ত্রী :জানো না তো ওদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারলে না, গাধা কোথাকার!
মেয়ে ধরা তো না
বাবা :তুমি কিন্তু একা একা বের হবে না কখনো।
মেয়ে :কেন বাবা?
বাবা :এখন ছেলেধরা বেড়ে গেছে। বাসার সামনেই ওরা ঘুরঘুর করে।
মেয়ে :ও আচ্ছা। কিন্তু এটা নিয়ে তুমি টেনশন করছ কেন?
বাবা :তোমাকে নিয়ে টেনশন করব না?
মেয়ে :না করবে না। ছেলেধরা বেড়েছে, মেয়েধরা তো না।
যন্ত্র আছে কি না সেটা বলেন?
সাংবাদিক :আপনাদের অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র আছে?
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ :কে বলল নেই?
সাংবাদিক :কিন্তু আমরা তো শুনেছি, সবগুলো অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ?
কতৃপক্ষ :যন্ত্র আছে কীনা সেটা বলেন? মেয়াদ দিয়ে কী করেন?
সাংবাদিক :এটা কী বললেন, মেয়াদের দরকার নেই? এই ধরেন যদি হাসপাতালে আগুন লেগে যায় তখন কী করবেন?
কতৃপক্ষ :এত কু ডাক ডাকেন কেন আপনি? আপনার সমস্যা কী?
সাংবাদিক :না মানে, ধরেন যদি...
কতৃপক্ষ :ওই, কে কোথায় আছিস, ধর তো ওনারে।
ঘুষ
বেকার গ্র্যাজুয়েট ছেলের কাছে এক অফিসের ইন্টারভিউ লেটার এসেছে। ছেলেটি অনেক কায়দা করে সেই অফিসের ম্যানেজার সাহেবের সঙ্গে ভাব জমিয়ে ফেলল। তারপর একদিন দামি এক রেস্টুরেন্টে এনে তার ইন্টারভিউ লেটার পাওয়ার ঘটনাটা খুলে বলল। সঙ্গে এও বলল, ‘চাকরিটা আমার চাই-ই চাই। ওয়েটার এলো খাবারের মেন্যুবুক নিয়ে। বেকার গ্র্যাজুয়েট মেন্যুবুক ম্যানেজার সাহেবের হাতে তুলে দিলো।
বেকার গ্র্যাজুয়েট :কী খাবেন বলুন।
ম্যানেজার সাহেব :আমি যা খাব, তা তো এ মেন্যু বুকে নেই।
বেকার গ্র্যাজুয়েট :কী বলেন, শহরের সবচেয়ে দামি রেস্টুরেন্টের এটা একটা। এখানে নেই, এমন কোনো খাবার আছে? কী খেতে চাইছেন বলুন তো।
ম্যানেজার সাহেব :ঘুষ।
ঘুষ একটি সহজ খাবার
মহিলা :আমার স্বামীর কী হয়েছে, দেখুন না?
ডাক্তার সাহেব :কেন কী হয়েছে?
মহিলা :সামনে পোলাও, কোর্মা, কালিয়া এত এত খাবার কিচ্ছু খেতে চায় না।
ডাক্তার সাহেব :আপনার স্বামী কোন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন, বলুন তো।
মহিলা :কেন, নিয়োগ ডিপার্টমেন্টে।
ডাক্তার সাহেব :ও আচ্ছা, এবার বুঝেছি। উনি কোনো কঠিন খাবার খেতে পারেন না, তাই না?
মহিলা :একদম তাই। কিন্তু আপনি কী করে বুঝলেন?
ডাক্তার সাহেব :আমার কাছে যারা আসে, তারা অনেকেই সহজ খাবারে অভ্যস্ত তো, তাই সে অভিজ্ঞতা থেকে বললাম।
রচনা নাকি সারাংশ
শিক্ষক ক্লাসে রচনা লিখতে দিয়েছে। বিষয় :ঘুষ খাওয়া খুব সহজ।
সব ছাত্ররা লেখা শুরু করা মাত্রই এক ছাত্র তার খাতা জমা দিয়ে দিল। শিক্ষক অবাক হয়ে দেখলো ছাত্রটি লিখেছে—সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না কওয়া সহজে।
শিক্ষক ছাত্রটিকে ডেকে বলল, এটা কি লিখেছিস, রচনা নাকি সারাংশ?
ছিনতাই কারে কয়
প্রথম ছিনতাইকারী :নারে দোস্ত, এতদিনে আমরা একটা গ্রেডে উঠলাম।
দ্বিতীয় ছিনতাইকারী :কেমনে?
প্রথম ছিনতাইকারী :তুই কি পেপার-পত্রিকা কিছুই দেখিস না? প্রত্যেকটা পেপারের সামনের পৃষ্ঠায় আমাগো খবর আইতাছে দুইদিন ধইরা।
দ্বিতীয় ছিনতাইকারী :কোন খবর? একটু খুইল্লা কইবি তো।
প্রথম ছিনতাইকারী :এতদিন তো মানুষ আমাগো দামই দিত না। কই তো, ব্যাগ টান দেওয়া ছিনতাইকারী। আমাগো এক বড় ভাই বিমান ছিনতাই কইরা দেখাই দিছে ছিনতাই কারে কয় আর ছিনতাইকারী কী জিনিস।