কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এবার নতুন অতিথি তিন বাঘ শাবকের আগমন ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে পার্কের নির্ধারিত বেস্টনীতে বাঘ ‘জয় ও বাঘিনী ‘জুঁই’র সংসারে জন্ম নেয় এ তিনটি বাঘ শাবক। বর্তমানে জন্ম নেয়া তিনটি বাঘ শাবক ও তাদের জন্মদাতা বাবা জয় ও মা জুঁইকে একই স্থানে রাখা হয়েছে নির্বিড় পরির্চযার মাধ্যমে। সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা ও বনবিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এবং সহকারি ভেটেরিনারী সার্জন মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও তরল খাবার দুধ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পার্কের বাঘ বেষ্টনী ঘুরে দেখা গেছে, নবজাতক তিনটি শাবক ও তাদের মা জুঁই সুস্থ রয়েছে। পার্কের ভেটেরিনারী বিভাগের কর্মীরা শাবক তিনটির নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বনবিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালে র্যাব ও বনবিভাগের অভিযানে ঢাকার শ্যামলী এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি থেকে দুই মাস বয়সের তিনটি বাঘ শাবক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় এগুলো শারীরিক ওজন ছিল আড়াই থেকে তিন কেজি। পরে এ গুলোকে পাঠানো হয় ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে।
তিনি বলেন, পার্কে আনার পর তাদের নাম রাখা হয় জয়, জ্যোতি, জুঁই। এখানে ভেটেরিনারী বিভাগের লোকজনের পরিচর্যায় ক্রমান্বয়ে বেড়ে উঠতে থাকে এ তিনটি বাঘ শাবক। এরই মধ্যে তাদের মাঝে রুপ পায় হিং¯্রতা। গতবছর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সরকার জাপানকে দু’টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার উপহার দেন। তার মধ্যে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে রনবীর নামের একটি ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে জ্যোতি নামের অপরটি।
মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাঘ শাবক জয় ও জুঁই বড় হয়ে উঠলে পার্কে থাকা আগের দু’টি বাঘ-বাঘিনীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় গাজীপুরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। এরপর গতবছরের ১৩ অক্টোবর জয়-জুঁইকে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয় আনুষ্টানিকভাবে। আর চলতিবছরের ৫ মে পার্কের নির্ধারিত বেস্টনীতে তারা জন্ম দেয় একে একে তিনটি বাঘ শাবক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা বলেন, জন্মের পর থেকে নবজাতক তিনটি শাবক ও তাদের মা জুঁই সুস্থ রয়েছে। পার্কের ভেটেরিনারী বিভাগের কর্মীরা শাবক তিনটির নিবিড় পরিচর্যা করছেন।
তিনি বলেন, আমরা আগে জানতাম পরিবেশগত কারণে সুন্দরবনেই বাঘ-বাঘিনী শাবকের জন্ম দেয়। কিন্তু এবারই প্রথম বনের বাইরে আবদ্ধ পরিবেশে তারা শাবক জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। অবশ্য বাঘ জয় ও বাঘিনী জুঁইকে পূণার্ঙ্গভাবে বেড়ে উঠতে ও প্রজনন ক্ষেত্রে পার্কের ভেটেরিনারী বিভাগের লোকজন যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন।