ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য আবার তথ্য সংগ্রহ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসেই মাঠকর্মীদের কাজে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—সদ্য সমাপ্ত তিন সিটির নির্বাচনের কারণে চলতি বছরের তথ্য সংগ্রহের ঘোষণার কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।
আইনে প্রতিবছরের ২ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালানাগাদ করার কথা বলা হয়েছে। গত বছর ১৫ মে থেকে কয়েক ধাপে সারা দেশে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৫ নভেম্বর শেষ হয় নিবন্ধন কার্যক্রম। জানুয়ারিতে ওই তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। ২০১৪ সালের হালানাগাদে ৫১ লাখ নতুন ভোটারের নাম নিবন্ধন করা হলেও তাদের পরিচয়পত্র দেয়ার কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত হলেও ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের কারণে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই কমিশন তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে মাঠকর্মীদের মাঠে নামাবে।’
ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর হবে, তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করবে মাঠকর্মীরা। গত বছর অনেক এলাকা থেকে মাঠকর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়ি-বাড়ি না যাওয়ার অভিযোগ ওঠায়, এবার সতর্ক পদেক্ষপ নিচ্ছে ইসি। ৪৬ লাখ নতুন ভোটার নিবন্ধনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও ৫১ লাখ ৫ হাজার ৭১১ জন নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে বাছাইয়ের পর ৪৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৩ জনকে নিবন্ধন করা হয়। মৃত ভোটার কর্তন করা হয় ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৯ জনের।
২০১৪ সালের হালানাগাদ শেষে দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৪২ এবং নারী ভোটার ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ১০ জন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে কমিশন সভার এজেন্ডায় বিষয়টি থাকবে। ওই সভায় কবে থেকে তথ্য সংগ্রহকারীরা মাঠে নামবে, তা চূড়ান্ত হবে।