উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া জাহাজ

ছিয়ানব্বই ঘন্টা পার হলেও সুন্দরবনের ভোলা নদে ৭শ’ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারসহ ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ এমভি জাবালে নুরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বন বিভাগের উদ্ধারকারী যান না থাকায় কার্গোটি উদ্ধার করতে পারছেন না তারা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এদিকে জোয়ার-ভাটার টানে সার সুন্দরবনের নদী ও খালে ছড়িয়ে পড়ছে। জাহাজের মধ্যে জমাট বাঁধা সার আত্মসাত করার জন্য স্থানীয় একটি চক্র তত্পর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 
এ ঘটনায় সুন্দরবন বিভাগ গত বুধবার রাতে শরণখোলা থানায় এই হ্যারিটেজ বনের এক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সারবাহী জাহাজটির মালিক আমিনুল ইসলাম, চালক মো. হাফিজুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ কামাল উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এছাড়া জাহাজ ডুবির ঘটনা তদন্তে গঠিত পৃথক ৩টি কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
 
গত রবিবার বিকেলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদের মরা ভোলার ডুবোচর এলাকায় সারবাহী কার্গোটি আটকা পড়ে। উদ্ধার করতে গেলে সোমবার ঢেউয়ের চাপে তলাফেটে সেটি পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে সার নদের পানিতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
 
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জোয়ারের পানিতে জাহাজটিতে থাকা অধিকাংশ সার পানিতে মিশে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে ছড়িয়ে পড়েছে। সারের লাল পুরু আস্তরণ নদীর পানিতে ভাসছে। ঘটনাস্থলে ওই জাহাজের মালিক পক্ষ বা মাষ্টার-নাবিক কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা ঘটনার পর পরই পালিয়ে যান। শত শত টন সার পানিতে মিশে এর অক্সিজেন কমিয়ে লবণাক্ততা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিষেশজ্ঞরা। দুর্ঘটনাস্থল ও সুন্দরবনের নদী-খালের পানিতে কতটুকু অক্সিজেন রয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ‘সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
 
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল বলেন, ডুবে যাওয়া কার্গোর সার অপসারণের জন্য একটি পাম্প মেশিন ভাড়ায় আনা হয়েছে। কিন্তু পাইপ স্বল্পতার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। এ ধরনের কার্গো উত্তোলনের সরঞ্জামাদিও আমাদের কাছে নেই। এজন্য বিআইডব্লিউটিএ এর সাহায্য চাওয়া হয়েছে। দ্রুত এটি অপসারণ করা না গেলে চ্যানেলটি পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া আশঙ্কা করছেন তিনি।
 

প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মৃগমারী এলাকায় ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি তেলবাহী জাহাজ তলা ফেটে ডুবে যায়। এতে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল।